ঝিনাইদহ জেলা সংবাদদাতা
ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিতরণের সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের বিরুদ্ধে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে মাল্টিমিডিয়া ইউনিট প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্যে বরিশাল থেকে ৫৭৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ করেছে। তবে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় সরকার বহন করলেও, শিক্ষকদের কাছ থেকে এ খরচ আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শৈলকুপা, হরিণাকুন্ডু ও ঝিনাইদহ সদরে ১৫০ টাকা, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুরে ২০০ টাকা করে প্রজেক্টর বিতরণের সময় ভাড়া বাবদ টাকা নেওয়া হয়েছে। জেলা জুড়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার বেশি চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শৈলকুপার প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, “আমার স্কুলে প্রজেক্টর বিতরণের সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেড়শ টাকা নিয়েছেন। প্রায়ই নানাভাবে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়।”
কোটচাঁদপুরের এক শিক্ষক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বলেন, “৫২টি স্কুলে প্রজেক্টর বিতরণের দিনে ভাড়া বাবদ ১০ হাজার ৪০০ টাকা আদায় করা হয়েছে, যার মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিস পেয়েছে ৫ হাজার ২০০ টাকা।”
শিক্ষক শামারুখ পারভীন রুবি বলেন, “বরিশাল থেকে প্রজেক্টর আনতে ট্রাক ভাড়া লক্ষাধিক টাকা হতে পারে না। অতিরিক্ত অর্থ কার পকেটে গেছে তা খুঁজে বের করা জরুরি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আনন্দ কিশোর সাহা বলেন, “সারা জেলায় ৫৭৭টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দেওয়া হয়েছে। আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রতিটি স্কুল থেকে ১০০ টাকা নেয়া হয়েছে। এর বেশি কেউ নিয়ে থাকলে, তা ব্যক্তিগত দায়িত্ব।”
শিক্ষকদের সরাসরি অভিযোগ ও ক্ষোভ বিষয়টি খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আস্থা ক্ষুণ্ন হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন শিক্ষক সমাজ।

