কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া–টুঙ্গিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের বিরুদ্ধে ভোটারদের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গত ২৯ ডিসেম্বর গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচন বিধি অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট আসনের মোট ভোটারের কমপক্ষে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংযুক্ত করে মনোনয়নপত্র দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বাক্ষর সংযুক্ত করে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে এসব স্বাক্ষরের একটি অংশ জাল বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে কোটালীপাড়া উপজেলার সাদুল্লাপুর ও রাধাগঞ্জ ইউনিয়নে গিয়ে একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে স্বাক্ষর জালের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন।
সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের টিকরীবাড়ি গ্রামের মিলন সেনের স্ত্রী যমুনা সেন জানান, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রশাসনের লোকজন তার কাছে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের পক্ষে তিনি স্বাক্ষর করেছেন কি না জানতে চান। তিনি বলেন, “আমি গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নামে কাউকে চিনি না, কখনো তার নামও শুনিনি। আমি তার কোনো কাগজে স্বাক্ষর করিনি। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ স্বাক্ষর দিয়ে থাকলে সেটি জাল।”
একই অভিযোগ করেন রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের গোলাবাড়ি গ্রামের সুনীল বাড়ৈর স্ত্রী উষা বাড়ৈ। তিনি বলেন, “ঘটনার সময় আমি আমার ছেলের বাসায় ঢাকায় ছিলাম। গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক নামে কাউকে আমি চিনি না এবং তার কোনো কাগজে স্বাক্ষর করিনি।”
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার পক্ষে যে ১ শতাংশ ভোটার স্বাক্ষর দিয়েছেন, তারা সবাই স্বেচ্ছায় ও সঠিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন। জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ সত্য নয়।”
এ প্রসঙ্গে সরকারি রিটার্নিং অফিসার ও কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জমা দেওয়া স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত তিনি গ্রহণ করবেন।”
স্বাক্ষর জালের অভিযোগ নিয়ে তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটাররা।

