মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের মধুখালীতে বাগান ও সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরাই এখন জমি দখলের উদ্দেশ্যে মালিকের রোপণকৃত মেহগনি গাছ কর্তন করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির মালিক মধুখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে। সরেজমিনে পরিদর্শনে এ প্রতিনিধিও মেহগনি গাছ কর্তনের সত্যতা পান।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লিটন সরকার ৫২ নম্বর বেলেশ্বর রামকান্তপুর মৌজার খতিয়ান নম্বর ৬০৭-এর ৫১৮৯ ও ৫১৯১ দাগভুক্ত মোট ৭৫ শতাংশ জমির ভোগদখলকারী। ওই জমিতে রোপণ করা ৭টি মেহগনি গাছ দখলের উদ্দেশ্যে কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিটন সরকার মৃত কেশব রায়ের ছেলে কিশোরী রায় (৫৭), তার দুই ছেলে মৃদুল রায় (৪২) ও মিহির রায় (৪০)-সহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কিশোরী রায়ের স্ত্রী মোমতা রানী রায় মেহগনি গাছ কর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমার ছেলে মৃদুল রায়ই গাছ কেটেছে।”
তবে গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে কিশোরী রায় বলেন, “আমার পিতা মৃত কেশব রায় লিটন সরকারের দাদাকে টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু দলিল করে দেওয়া হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই রাগের বসবর্তী হয়ে আমার ছেলে গাছ কেটেছে।”
অপরদিকে অভিযুক্ত মৃদুল রায় অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি গাছ কাটিনি। আমাকে ফাঁসানোর জন্য লিটন সরকার নিজেই গাছ কেটে আমার নামে থানায় অভিযোগ করেছেন।”
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গাছ কাটা হয়েছে—এটি সত্য। তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়।”
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

