আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন—আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি খুশবুর রহমান খোকন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি রেজাউল করিম রেজা এবং উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সুজা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ২৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর জামান খসরু বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় বিএনপি সবসময় আপসহীন। সংগঠনের নিয়ম ভঙ্গ করলে যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও কেউ দলীয় নিয়মের বাইরে গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে বহিষ্কারের ঘটনায় আলফাডাঙ্গা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী মনে করছেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এতে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সাধারণ জনগণের একাংশের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের ভেতরের শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। এতে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বহিষ্কার সিদ্ধান্ত বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
এ ছাড়া একাধিক রাজনৈতিক নেতার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগের জের ধরেই সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক কাঠামো সুদৃঢ় করতে ফরিদপুর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।

