জয়পুরহাট প্রতিনিধি
গত মৌসুমে আলু চাষে লোকসানের কারণে জয়পুরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন মাঠ জুড়ে হলুদ সরিষা ফুলের সমারোহ চোখে পড়ছে। ফুলের সৌন্দর্য ও ঘ্রাণে মুগ্ধ হচ্ছেন পথচারীসহ স্থানীয়রা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর জয়পুরহাটে প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে রেকর্ড পরিমাণ আলুর চাষ হয়েছিল। ফলে আগের দুই বছরের তুলনায় সরিষার আবাদ প্রায় ৪ হাজার হেক্টর কমে গিয়েছিল। তবে আলু চাষে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ায় চলতি মৌসুমে অনেক কৃষক আলুর পরিবর্তে সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন।
গত বছর জেলায় ১৪ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টরে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর বেশি।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল, দস্তপুর, শালগ্রাম, হালট্টি, জলাটুলসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ বর্তমানে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। অনেক জমিতে ইতোমধ্যে গাছে গাছে সরিষার দানা আসতে শুরু করেছে।
কৃষকরা জানান, সরিষা চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং ঝুঁকিও কম। তাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের মাধ্যমে আগের মৌসুমের আলু চাষের লোকসান কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার দস্তপুর গ্রামের কৃষক নয়ন হোসেন বলেন,“গত বছর আলু চাষ করে প্রায় এক লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তাই এবার আলু কম আর সরিষা বেশি চাষ করেছি। সরিষার খরচ কম, ঝামেলাও কম। আশা করছি, ভালো দাম পাব।”
পুরানাপৈল গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দীন বলেন,“এবার পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। গত বছর করেছিলাম দুই বিঘা। শুধু বাড়ির জন্য ১৫ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছি। সরিষা বিক্রি করব, আর কিছুটা তেল করার জন্য রাখব।”
হেলকুন্ডা গ্রামের কৃষক মাহফুজ হোসেন বলেন,“এবার সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় খরচ কিছুটা বেড়েছে। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘায় ৭ থেকে ৮ মণ সরিষা পাওয়া যায়। মণপ্রতি দাম ২ থেকে ৩ হাজার টাকা হলে লাভ ভালো হবে। সরকার যেন বাজার ব্যবস্থাপনায় নজর দেয়।”
এ বিষয়ে জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) লুৎফর রহমান বলেন,“চলতি মৌসুমে জেলায় ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। আলু চাষে লোকসানের কারণে অনেক কৃষক সরিষার দিকে ঝুঁকেছেন। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, মাঠ পর্যায়ের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, যাতে গুণগত মান ভালো থাকে এবং নিরাপদভাবে ফসল ঘরে তুলতে পারেন। আশা করছি, এবার ফলন ভালো হবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন।”

