শামীম শেখ,গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও যুবক রেজাউল শিকদারের (৩৫) কোনো সন্ধান মেলেনি। মঙ্গলবার বিকেলে নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
নিখোঁজ রেজাউল শিকদার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনের ওপর অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সঙ্গে রেজাউলের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয়ে তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তিনি নদীতে পড়ে যান। পরিবারের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় স্কুলছাত্রী সানিয়া আক্তার জানান, বিকেল ৩টার দিকে তিনি ফেরিঘাট এলাকায় নদীতে গোসল করতে গেলে রেজাউল ও অপরিচিত এক ব্যক্তির মধ্যে তর্ক ও হাতাহাতি দেখতে পান। এক পর্যায়ে দু’জনই পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যান। পরে স্থানীয় কয়েকজন অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করলেও রেজাউলের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে আবার পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি দৌড়ে গিয়ে রেজাউলের পরিবারকে খবর দেন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, রেজাউল নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং ফেরিঘাট এলাকায় একটি জুয়া চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক কিংবা জুয়ার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে নিখোঁজ রেজাউলের কোনো সন্ধান মেলেনি। দ্বিতীয় দিনের মতো বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
বুধবার(৪ ফেব্রুয়ারি)দুপুরে নিখোঁজ রেজাউলের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার ও রবিউল শিকদার অভিযোগ করে বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাদের ছোট ভাইকে ফেরির পন্টুনে এনে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তারা আনু খা, আইয়ুব খা, ফারুক খা, তোতা খা, সোহেল খা ও ইউনুস খাসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে দ্রুত মামলা করার কথা জানান। তারা আরও জানান, রেজাউল পেশায় ট্রাকের হেলপার ছিলেন।
আরিচা স্থল কাম নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার জয়নুল আবেদিন বলেন, “নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক এজিএম মো. সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, উদ্ধার অভিযানে বিঘ্ন এড়াতে ঘটনার পর থেকে ৩ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্য দুটি ঘাট দিয়ে সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে থানায় অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

