দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ একদিন পরে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে সাধারণ ভোটাররা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। আসনে মোট ১৩৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ৬৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪৭টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দৌলতপুর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিন্দ্য গুহের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের যৌথ টহল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন নিশ্চিত করছে যে ভোটাররা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে তাদের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। তবে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতার কারণে বিশেষ নজরদারী থাকবে।
দৌলতপুরে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. বেলাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী সাহাবুল মাহমুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী মুফতি আমিনুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট-এর প্রার্থী বদরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এর প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহরিয়ার জামিল জুয়েল এবং বিএনপি থেকে বহিস্কৃত (স্বতন্ত্র) প্রার্থী নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা।
নির্বাচনের মাঠে বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য দলগুলো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, পোস্টার, লিফলেট ও উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার জয়ের সম্ভাবনা এখনও দৃঢ়, যদিও ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, র্যাব ও বিজিবির টহল, চরাঞ্চলে বিশেষ নজরদারি এবং চলতি মাসে অভিযানকালে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জব্দসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।”
দৌলতপুরের ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৪ ভোটারের মধ্যে ৬০ হাজার ৮৬৬ জন তরুণ ভোটার রয়েছে। ভোটাররা আশা করছেন এবারের নির্বাচনে তারা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট দিতে পারবেন।

