নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সড়কের অংশে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিষয়টি দ্রুত ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলায় নেমেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। স্থানীয়দের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে কারিগরি বিশ্লেষণ ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে গুণগত মান ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নদীপাড়ের ভৌগোলিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবুও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কারিগরি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী নকশা ও নির্মাণপদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে সড়কটি আরও টেকসই করা হবে বলে জানান তিনি।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান জানান, প্রাথমিক পরিদর্শনে ঘটনাটি প্রাকৃতিক ভূমিধস বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কারিগরি বিশ্লেষণের জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) অথবা ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET)–এর পুরকৌশল বিভাগের কোনো জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের একটি কারিগরি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্প পরিচালক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্য থাকবেন। কমিটি ভূমিধসের কারণ নির্ণয় করে টেকসই সমাধানের সুপারিশ দেবে।
ঘটনাটি ঘটে মহানগরীর কাশিমপুর ধনঞ্জয়খালী এলাকায়, তুরাগ নদ–এর পশ্চিম তীরে সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নির্মাণাধীন সড়কে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইউসিসিএল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। দুটি প্যাকেজের আওতায় বিটুমিনাস কার্পেটিংসহ সড়ক উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।
প্যাকেজ-১২ এর আওতায় ১,১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা কার্যাদেশে দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬৪ লাখ ৪১ হাজার ৫৭১ টাকা। প্যাকেজ-৫ এর আওতায় ১২,০৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার টাকা হলেও কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে ১৪ কোটি ২৮ লাখ ১১ হাজার ৪৫৯ টাকায়। প্রকল্পে ২৫০ মিটার ডব্লিউবিএম, ৬০ মিলিমিটার কার্পেটিং, ১.৮ মিটার ফুটপাত, রেলিং ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে কাজ আরও মানসম্মত করা হবে।
কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, নদীপাড়ে নির্মাণকাজে কিছু ঝুঁকি থাকলেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কটি দ্রুত মেরামত ও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এতে জনভোগান্তি কমার পাশাপাশি নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম আরও টেকসই ও আস্থাভাজন হয়ে উঠবে।

