রাসেল আহমেদ, খুলনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত মন্ত্রিসভায় খুলনা বিভাগ থেকে চারজন পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেও বিভাগীয় শহর খুলনা জেলা থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
খুলনা বিভাগ থেকে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও শেখ ফরিদুল ইসলাম।
মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত নিতাই রায় চৌধুরী এর আগেও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। অতীতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবারও পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। ঝিনাইদহ-1 আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তিনি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৪ সালে দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট। বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসন থেকে নির্বাচিত শেখ ফরিদুল ইসলাম ১ লাখ ২ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণের এই চিত্রে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে খুলনা জেলা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি জয়লাভ করলেও মন্ত্রিসভায় জেলার কোনো প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন মহলে হতাশা নেমে এসেছে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, শিল্প-কারখানা বন্ধ, গ্যাস সংকট ও ব্যবসায়িক স্থবিরতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে খুলনার একজন প্রতিনিধির মন্ত্রিসভায় থাকা জরুরি ছিল। খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাস্তবায়নে মন্ত্রিসভায় খুলনার প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন ছিল।
খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, বিভাগীয় শহর হিসেবে খুলনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে জয় পাওয়ার পরও কাউকে স্থান না দেওয়ায় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে খুলনা বিভাগ থেকে চারজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নেওয়ায় একদিকে নতুন সম্ভাবনার বার্তা মিলেছে, অন্যদিকে খুলনা জেলা থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় ‘বঞ্চনার রাজনীতি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন প্রশ্নে নবগঠিত মন্ত্রিসভার কার্যকর পদক্ষেপের দিকে।

