নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বেগুনজোয়ার দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দপ্তরি সৈকত হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার স্কুলে উপস্থিত সকল ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় জনতার হাতে মারধরের শিকার হন তিনি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দুইদিন আগে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ম্যাসেঞ্জারে প্রেমের প্রস্তাব দেন মো. সৈকত হোসেন। একই ধরনের ঘটনা একাধিক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে ঘটায় তিনি। স্কুলে উপস্থিত হওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ও ছাত্রছাত্রীরা তাকে আটক করে মারধর করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি ও বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, “একই স্কুলে বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা ও নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও খারাপ কিছু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।”
দপ্তরি মো. সৈকত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি এই ম্যাসেজগুলো পাঠাইনি। ৪–৫ মাস আগে আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল। সেই সময় বিদ্যালয়ের সহকর্মীদের সহায়তায় আইডি পুনরায় নিয়ন্ত্রণে এনেছি। আমাকে যে হেনস্তা করা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সঠিক তদন্ত হলে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হব।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, “বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি শুনেছি। আগামীকাল ইউএনও স্যারের নির্দেশে এ বিষয়ে মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি জানান, “ঘটনাটি শুনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। দপ্তরির পাঠানো ম্যাসেজের স্ক্রিনশটও দেখেছি। আগামীকাল বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভায় বিষয়টি আলোচনা করে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

