Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঢাকা বিভাগ
  13. তথ্যপ্রযুক্তি
  14. দিনাজপুর
  15. দৌলতপুর
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুন্সীগঞ্জে মশার উপদ্রবে দিশেহারা মানুষ, ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ জেলাজুড়ে দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যা নামলেই শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কয়েল, স্প্রে, মশারি ব্যবহার করেও মিলছে না রেহাই। জেলা সদরসহ গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও লৌহজং উপজেলার প্রায় সব এলাকাতেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অফিস-আদালত, মসজিদ, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মশার উৎপাত চরমে পৌঁছেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা, অপরিষ্কার নালা-নর্দমা, জমে থাকা ময়লা পানি ও অব্যবস্থাপনার কারণে মশার বংশবিস্তার বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও ভোরবেলায় মশার আক্রমণ তীব্র হয়ে ওঠে। পবিত্র রমজান মাসে ইফতার, তারাবিহ ও সেহরির সময় মশার উপদ্রবে ইবাদতেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের তথ্যমতে, জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৫ জন। সে সময় জেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় তীব্র চাপ লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি ছিল; অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন, আবার আর্থিক সংকটে কেউ কেউ চিকিৎসা নিতে পারেননি।

মুন্সীগঞ্জ শহরের এক বাসিন্দা বলেন, “মশার কারণে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। কয়েল, স্প্রে ব্যবহার করেও কোনো লাভ হয় না। মাঝে মাঝে মনে হয়, এটা মশার শহর আর আমরা এখানে অতিথি।”

আরেকজন জানান, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক সব সময় কাজ করে। কিন্তু নিয়মিত ফগিং বা পরিচ্ছন্নতার তেমন উদ্যোগ দেখি না।”

মিরকাদীম পৌর এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, পৌর এলাকায় ময়লার স্তুপ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে মশার বংশবিস্তার বেড়েছে। পৌরসভা মাঝে মধ্যে ফগিং করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল ও অনিয়মিত বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্বাস্থ্য সচেতন মহল বলছে, মশা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও টেকসই কার্যক্রম জরুরি। নালা-নর্দমা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত ফগিং এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুম ও পরবর্তী সময়ে এডিস মশার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মিরকাদীম পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোচ্ছাবেরুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের একটি টিম হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছে। পৌরসভা, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলার সচেতন নাগরিকরা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পর্যাপ্ত ফগিং এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে সামনে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।