মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ঘোপ বাওড়ের ব্যক্তি মালিকানাধীন জলাশয়ে মাছ ধরা বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাল পতাকা টাঙানো প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা। শুক্রবার (৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলা সদরের বাঔজানি এলাকার ঘোপ বাওড়ের পাড়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন বেআইনিভাবে তাদের মালিকানা ও জীবিকায় হস্তক্ষেপ করছে। তারা বলেন, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা. শাহনুর জামান আদালতের আদেশ অমান্য করে ব্যক্তি মালিকানাধীন জলাশয়ে লাল পতাকা টাঙিয়ে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মালিকপক্ষের দাবি, পাঁচটি গ্রামের প্রায় এক থেকে দেড় হাজার পরিবার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমির মালিক। দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে তারা একাধিক আদালতে বিজয়ী হলেও প্রশাসন গায়ের জোরে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকরা জানান, ঘোপ বাওড় নিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে আইনি লড়াই চলছে। ২০১০ সালে সহকারী জজ আদালতে (দেওয়ানি মামলা নং-৩০/২০০৬) ১২ জানুয়ারি জমির মালিকদের পক্ষে রায় দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালে জেলা জজ আদালতে সরকারের করা আপিল (১০/২০১০) ৩০ জানুয়ারি খারিজ হয়ে যায় এবং আগের রায় বহাল থাকে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে মহামান্য হাইকোর্টে (মামলা নং-৩৩২/২০১৬) দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১২ নভেম্বর সরকার পক্ষ আবারও পরাজিত হয়।
বর্তমানে সহকারী জজ আদালতে ৩৩৪/২০২৪ নম্বর মামলায় স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে, যা এখনো চলমান বলে জানান তারা।
জমির মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তিনটি উচ্চতর আদালত যেখানে আমাদের মালিকানা স্বীকৃতি দিয়েছে, সেখানে প্রশাসন কোন ক্ষমতাবলে লাল পতাকা টাঙিয়ে আমাদের সম্পত্তিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে?”
তারা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং আদালতের রায় অনুযায়ী তাদের জমির মালিকানা ও মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. শাহনুর জামান বলেন, “আইনের মধ্যেই ঘোপ বাওড়ে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জমির মালিকসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

