আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙনে ডান তীর সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বাঁধের ব্লকগুলো খসে পড়তে শুরু করলে নদী তীরবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর বাজার সংলগ্ন কৃষ্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। বাঁধ ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত শতাধিক পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই কৃষ্ণপুর গ্রামের নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে ইতোমধ্যে ভ্যানচালক সোহাগ শেখ, নীহার বেগমসহ পাঁচ থেকে ছয়টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় শতাধিক বসতভিটা এখন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভ্যানচালক সোহাগ শেখ বলেন, হঠাৎ সন্ধ্যার দিকে নদীর পাড় ভেঙে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে যায়। বহু কষ্ট করে ঘর বানিয়েছিলাম, মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব বুঝতে পারছি না।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত নীহার বেগম বলেন, রাতে নদীর পাড় ধসে পড়ার শব্দ শুনে সবাই ভয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যাই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের ঘর নদীতে তলিয়ে যায়। এখন আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ২৮ থেকে ৩০ বছর ধরে মধুমতি নদীর তীর রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে মেরামত কাজ করা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি নদীর ডান তীর রক্ষায় একটি মেরামত বাঁধের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু কাজ চলাকালীন সময়েই হঠাৎ তীব্র ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
টগরবন্দ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন বলেন, মধুমতি নদীর ভাঙন এ এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। প্রতিবছরই ভাঙনের কারণে মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ না করলে কৃষ্ণপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ার খবর পেয়ে শনিবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করা হয়েছে, যাতে দ্রুত ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, মধুমতি নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ভাঙন রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে নদীভাঙনের আতঙ্কে অনেক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসী দ্রুত স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

