নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ যানচলাচলের কেন্দ্র জয়দেবপুর রেলক্রসিং এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদে আবারও অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। সোমবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে রেলক্রসিং ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও ভাসমান হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, হকার ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খলায় এলাকাটি নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হওয়ায় প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার বলেন, “গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রীন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এটি একদিনের অভিযান নয়, বরং চলমান প্রক্রিয়া।” তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল রোধে নিয়মিত তদারকি ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা সুশৃঙ্খল পরিবেশে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।”
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান বলেন, “জয়দেবপুর রেলক্রসিং গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি।” তিনি জানান, এলাকাটিকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ফুটপাত সংস্কার ও নাগরিক চলাচল সহজীকরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর রেলক্রসিং এলাকা কিছুটা স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেয়েছে। তবে তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান, যাতে পুনরায় দখলদাররা জায়গা দখল করতে না পারে।
অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরকে দখলমুক্ত ও চলাচলযোগ্য রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইনানুগ উপায়ে পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার দখলমুক্ত করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কিছুদিন পরই পুনরায় দখল হয়ে যায়। ফলে এবারের অভিযান কতটা স্থায়ী সমাধান দিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

