হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
যশোরের শার্শা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট জনজীবনকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ প্রখর রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে যুক্ত ‘ভিআইপি’ সুবিধার অভিযোগ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে, যেখানে ট্রাক, ট্রাক্টর, প্রাইভেট কারের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেকেই চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না।
ভুক্তভোগী আহসান কবির অভিযোগ করেন, “সাধারণ মানুষ নিয়ম মেনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়ম অমান্য করে সরাসরি তেল নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এতে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।”
একজন মোটরসাইকেল চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা টানা ৪ ঘণ্টা রোদে দাঁড়িয়ে আছি, তবুও তেল পাচ্ছি না। কেউ আমাদের কষ্ট দেখছে না। কিছু লোক প্রভাব খাটিয়ে সবার আগে তেল নিয়ে যাচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও চালকরা দাবি করেছেন, তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে, সিরিয়াল ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চালানো উচিত।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানিয়েছেন, ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কে হোক না কেন, সাধারণ মানুষের কাতারেই দাঁড়িয়ে তেল নিতে হবে। নিয়ম ভঙ্গ বা স্বজনপ্রীতি পাওয়া যাবে না।”
শার্শা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও জানিয়েছেন, তেল বিতরণে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘ভিআইপি’ সুবিধার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

