মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়াঙ্গন বিরামপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠ এখন দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার কবলে পড়ে দিন দিন খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে উঠছে।
পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে—তবুও নীরব দর্শকের ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘদিন ধরে এ মাঠে বিরামপুর খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ফুটবল, ক্রিকেট, নাইট টুর্নামেন্ট ও উপজেলা পর্যায়ে আন্তস্কুলের খেলাধুলাসহ নানা আয়োজন হয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাঠটি দখল ও দূষণের কারণে তার স্বাভাবিক ক্রীড়া পরিবেশ হারাতে বসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের একপাশে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ বাঁশ মজুত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাঁশের তৈরি বেড়া, ভাঙা ইট, বালি ও খোয়া ফেলে রাখা হয়েছে মাঠজুড়ে। এতে খেলোয়াড়দের বসার নির্ধারিত স্থানগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শুধু মাঠ নয়, পাশের সড়কের একাংশেও বাঁশের তৈরি বেড়া রাখায় স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পাশের ক্লিনিকে যাতায়াতকারী রোগী, সাধারণ মানুষ ও খেলোয়াড়রা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
এদিকে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণে মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে, যা খেলাধুলার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নতুন আরেকটি সমস্যা। মাঠের পূর্ব পাশে সপ্তাহে পাঁচ দিন ভোর ৬টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার বসে, যেখানে পাইকারি কেনাবেচা চলে।
পরবর্তীতে ওই স্থান থেকেই পণ্য ট্রাকে লোড করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। ফলে দিনের বড় একটি সময় মাঠের ওই অংশ খেলোয়াড়দের জন্য কার্যত অচল হয়ে থাকে।
এছাড়াও বাজার বসার কারণে আশপাশে যানজট ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে কলেজ সময়কালে পাশের মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, যা নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয় খেলোয়াড়, প্রবীণ ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মাঠ আমাদের ক্রীড়ার প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু বারবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এখানে খেলাধুলা বন্ধ হয়ে যাবে।
বিরামপুর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সুপারভাইজার ভোলানাথ সরকার জানান, “কর্তৃপক্ষ কয়েকবার নিষেধ করেছে, কিন্তু তারা তা মানছে না। ফলে মাঠের পরিবেশ ঠিক রাখা যাচ্ছে না।
ক্রীড়াঙ্গন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই মাঠের এমন বেহাল অবস্থা শুধু খেলোয়াড়দের জন্য নয়, পুরো এলাকার তরুণ সমাজের জন্যই একটি অশনিসংকেত। খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হলে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাঠের ভেতর থেকে অবিলম্বে সব বাঁশ ও নির্মাণ সামগ্রী অপসারণ, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার এবং কাঁচাবাজার অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি মাঠকে ক্রীড়াবান্ধব রাখতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিরামপুরের এই ঐতিহ্যবাহী মাঠ হারাবে তার ক্রীড়ার পরিচয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হারাবে তাদের নিরাপদ খেলাধুলার স্থান। প্রশ্ন একটাই—আর কতদিন দেখেও না দেখার ভান করবে দায়িত্বশীলরা?

