Nabadhara
ঢাকারবিবার , ৫ এপ্রিল ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনায় তরমুজে শত কোটি টাকার আয়, আশাবাদী কৃষক

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি

খুলনাঞ্চলের উপকূলবর্তী চার জেলায় এ মৌসুমে রসালো ফল তরমুজের বাম্পার ফলনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূলে থাকলে এবার তরমুজ বিক্রি থেকে প্রায় ৭২৩ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকার বাজার তৈরি হতে পারে। উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়ে কৃষকের হাতে থাকতে পারে প্রায় ৪১৩ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা লাভ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের রবি মৌসুমে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে। তবে নানা কারণে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি; আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪ হাজার ২৪৫ হেক্টর কম।

জেলা ভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, খুলনায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার ২৯১ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ১৫৬ হেক্টর। বাগেরহাটে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩৩ হেক্টরের বিপরীতে ১৬৪ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

সাতক্ষীরায় ৬১৮ হেক্টরের বিপরীতে ৪৭১ হেক্টর এবং নড়াইলে ১৩ হেক্টরের বিপরীতে ১৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০টি তরমুজ উৎপাদন হচ্ছে। বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা এবং বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭০ হাজার টাকায়। ফলে প্রতি বিঘায় প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ হিসাবে ১৩ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে মোট উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৭ কোটি ২৩ লাখ ৫৬ হাজার ২০০টি থেকে ৮ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৮০০টি তরমুজের মধ্যে। মোট উৎপাদন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১০ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

কৃষি বিভাগ জানায়, গত অর্থবছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতি ও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক প্রান্তিক কৃষক এবার তরমুজ চাষে আগ্রহ হারান। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবুও কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনায় আবারও কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

খুলনার দাকোপ, বাজুয়া, বটিয়াঘাটা ও মোংলার বানিয়াশান্তাসহ বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে কৃষকেরা। দাকোপ উপজেলার কৈল্লাশগঞ্জ ইউনিয়নের হরিণটানা ব্লকের কৃষক ইন্দ্রজিং জানান, তিনি কয়েক বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন।বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা, আর ফলন হয়েছে ৮০০-৯০০টি পর্যন্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

বটিয়াঘাটা উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (হালিয়া ব্লক) মোহাম্মাদ তারিকুল ইসলাম বলেন, তার ব্লকে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। বর্তমানে কৃষকেরা পরিচর্যা, কীটনাশক প্রয়োগ এবং সেক্সফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করছেন।

দাকোপ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা করুনা কান্ত সরকার জানান, চুনকুড়ি ব্লকে ৪০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ফলের মাছি দমনে সেক্সফেরোমন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ ব্যবহার করা হচ্ছে। আরও ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে তরমুজ তোলা শুরু হবে বলে জানান তিনি।

দাকোপ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় ৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর। গত বছরের ক্ষতি ও কম দামের কারণে অনেক কৃষক চাষে আসেননি। তবে এবার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হয়েছে।

খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর খরা ও অন্যান্য দুর্যোগে কৃষকের ক্ষতি হওয়ায় এ বছর আবাদ কমেছে। তবে এ মৌসুমে বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ—যেমন কালবৈশাখী, ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা খরা—না হলে কৃষকেরা তরমুজ চাষে ভালো লাভের মুখ দেখবেন।

সংশ্লিষ্টদের আশা, অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে খুলনাঞ্চলের তরমুজ শুধু কৃষকের আয়ই বাড়াবে না, দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।