জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আলু তোলার পর জমিতে পড়ে থাকা পচা আলুর বিষক্রিয়ায় বোরো ধানের চারা ব্যাপক হারে নষ্ট হচ্ছে। এতে নতুন করে চারা রোপণের বাড়তি খরচ ও ফলন অনিশ্চয়তায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩০০ বিঘার বেশি জমির ধান আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আলুর ক্ষতি সামাল দিতে না পারতেই নতুন করে ধানের ক্ষতিতে বিপাকে পড়েছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কালাই উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়। তবে অসময়ে টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় ২ হাজার ৬৭২ হেক্টর জমির আলু পানিতে পচে যায়। এতে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার মাত্রাই, মোসলেমগঞ্জ, উদয়পুর, আওড়াঁ, ধাপপাড়া ও চাকলমওয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন হাজার কৃষকের জমিতে পচা আলুর কারণে ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও সম্পূর্ণ, কোথাও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বারের মতো চারা রোপণ করছেন। কিছু জমিতে এখনও পচা আলু থেকে গ্যাসের বুদবুদ উঠতে দেখা যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সংকটের সময়ে কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ে তেমন কার্যকর উপস্থিতি ছিল না। অনেকেই সঠিক পরামর্শ না পেয়ে পচা আলুর জমিতে বারবার ধান রোপণ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ নতুন করে বীজতলা তৈরি করছেন, আবার অনেকেই চারা না পেয়ে বোরো আবাদ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন।
মাত্রাই তালুকদারপাড়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “হঠাৎ বৃষ্টিতে আলুর খেত তলিয়ে যায়। প্রায় ২০০ শতক জমির আলু নষ্ট হয়েছে। সেই জমিতে ধান লাগালেও সব চারা মরে গেছে। এখন আবার অন্য জায়গা থেকে চারা এনে দ্বিতীয়বার রোপণ করছি।”
আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের হাতিয়র গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, “৭০ শতক জমির আলু নষ্ট হয়ে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আবার ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ধান লাগিয়েও সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন চারা পাচ্ছি না।”
একই গ্রামের কৃষক সুজন জানান, পচা আলুর জমিতে দুইবার ধান লাগিয়েও সফল হননি। আলু ও ধান মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ শোধ নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, বৃষ্টির পর কৃষকদের পচা আলু সরিয়ে ১৮-২০ দিন অপেক্ষা করে ধান রোপণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যারা তা অনুসরণ করেননি, তাদের জমিতে ক্ষতি বেশি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় তিন হাজার কৃষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যারা আউশ আবাদ করবেন, তাদের বীজ ও সারসহ প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

