মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুরিতে ধান কাটা শুরু আগাম বন্যা ও শিলাবৃষ্টির ভয়ে কৃষকেরা আতঙ্কিত। এ অঞ্চলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। ছয়টি ইউনিয়নে ৮৯ টি হাওরে প্রায় ২০২৩২ হেক্টর জমিতে বোর ধান লাগানো হয়েছে।
এর মধ্যে মেন্দিপুর ইউনিয়নের ডুল্নীর হাওর, রোয়াইল,নন্দের বিল,পেটনার হাওর, চাকুয়া ইউনিয়নের চৌতারা,পাথরা হাওর, রানিচাপুর বিল, খালিয়াজুড়ি সদর ইউনিয়নের কীর্তনখোলা, পোতাবিল,দাইরের পার, লক্ষী পাশা, পারাবিল হাওর,নগর ইউনিয়নের, চেলাবিল, পায়ার হাওর,চাতলের হাওর, মুলদাইর, কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চায়ার হাওর, খানাইবিল,খাদ্যের হাওর,গাজীপুর ইউনিয়নের কইরা হাওর, নাইট্রা হাওর, হেনি হাওর, কাটা হাওর ও চাতল হাওরসহ প্রায় ২৮৬ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে আংশিক ক্ষতি হতে পারে এবং প্রায় ০৫ হেক্টর জমিতে বোর ধান নষ্ট হয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন আর বলেন, উক্ত উপজেলায় ২০২৩২ হেক্টর জমি কাটার করার জন্য প্রায় ২০০ টি হারভেস্টার মেশিনের প্রয়োজন। এর মধ্যে ৮৬ টি মেশিন রয়েছে।
বাকি হারভেস্টার মেশিন গুলো পার্শ্ববর্তী অন্যান্য উপজেলা হইতে সংগ্রহ করার জন্য চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে আরো প্রায় ৪০ টি হারভেস্টার মেশিন অত্র উপজেলায় প্রবেশ করেছে।
এখন প্রায় ১২৬ টি মেশিন আছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই বাকি মেশিনগুলো উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আসবে বলে আমরা আশাবাদী। প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে আংশিক কিছুটা ক্ষতি হলেও খালিয়াজুড়িতে বরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
নূরপুর বোয়ালী গ্রামের কৃষক কায়েসুর রহমান, খালিয়াজুড়ি উপজেলা কৃষক দলের সেক্রেটারি পান্ডব সরকার বলেন, নীচু জমিতে পানির কারণে মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটা সম্ভব হয়নি। তাই আমরা এলাকার কিছু কৃষক নিজেদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকার কিছু নীচু জমিতে ধান কাটা শুরু করেছি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও গাজীপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ স্বাধীন, জামাতের আমীর মোঃ ইসমাইল হোসেন, বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান তালুকদার কেষ্টু যৌথ ভাবে বলেন খালিয়াজুরী উপজেলায় বরো ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে।
অতি বৃষ্টির কারণে কিছুটা জলাবদ্ধতা হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় হারভেস্টার মেশিন সংগ্রহের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি, আশা করি ভালোভাবে ফসল কেটে ঘরে তুলতে পারবো ইনশাল্লাহ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম বলেন, জলবদ্ধতার কারণে নিচু জমিগুলোর মাঝে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে আংশিক বরো ফসল কাটা শুরু করেছে। এ বছর বরো ফসলের ফলন ভালো হয়েছে। আগামী ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ আমরা আনুষ্ঠানিক ভাবে বরো ফসল কাটা শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি ডিজেল তেলের বিষয়ে বলেন, পার্শ্ববর্তী মদন ও ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আমাদের কথা হয়েছে, সেখানে তেলের পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রাখা হবে। উক্ত তেলের পাম্প থেকে আামাদের তেলের ডিলারগণ পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সংগ্রহ করতে পারিবে।
তাছাড়া খালিয়াজুড়িতেও ডিলারদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করে রাখা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদির হোসেন শামীম জানিয়েছেন।

