রাসেল আহমেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধান এখন কাটার অপেক্ষায়। তবে মাঠে পাকা ধান দাঁড়িয়ে থাকলেও স্বস্তি নেই কৃষকদের মনে। বাড়তি উৎপাদন খরচ, জ্বালানি সংকট এবং বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৬ হাজার হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর জমিতে। মৌসুমজুড়ে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফসল দাঁড় করালেও শেষ সময়ে এসে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৈশাখের শুরুতেই ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি দাবদাহ তীব্র হতে পারে। ইতোমধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা পাকা ধানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সারের কোনো ঘাটতি না থাকলেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক এলাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।এপ্রিলের শেষ দিকে উপজেলা পর্যায়ে ডিজেল সংকটের কথাও জানিয়েছেন কৃষকরা।
এদিকে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়েছে। আগে যেখানে দৈনিক ৬০০ টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেত, সেখানে এখন গুনতে হচ্ছে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে গত বছরের তুলনায় এবারের বোরো চাষে খরচ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
এর মধ্যে গত বুধবার রাতে খুলনায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে পাইকগাছার গদাইপুর, কয়রার অন্তাবুনিয়া, ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া, শাহপুর ও চুকনগর এলাকায় বোরো ক্ষেতে পানি জমে গেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে কৃষকদের মধ্যে।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “স্বল্প বৃষ্টিতে তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে টানা দুই-তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত হলে এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
গত বছর শিলাবৃষ্টিতে তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা এবার বোরো চাষে ঝুঁকেছেন। এখন আবহাওয়ার পূর্বাভাসে তারা আতঙ্কিত।”
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, জেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে ডুমুরিয়ায়। সেখানে ২২ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব।”
সব মিলিয়ে, মৌসুমজুড়ে বাড়তি খরচ ও নানা সংকটের মধ্যে বোরো চাষ সম্পন্ন করলেও শেষ মুহূর্তে এসে প্রাকৃতিক ঝুঁকির কারণে খুলনার কৃষকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা—আবহাওয়া অনুকূলে থাকুক, যেন কষ্টের ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারেন।

