যশোর প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ঘন মেঘ, দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিসহ ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। অল্প সময়ের এই ঝড়েই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
সরেজমিনে মূলগ্রাম, ভবানীপুর, হাবাসপোল, বেগমপুর, দোরমুটিয়া, বেলকাটি ও পাঁজিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ জমির ২৮ জাতের ধান মাটিতে পড়ে গেছে। কোথাও পুরো ক্ষেত মাটির সঙ্গে লেগে আছে, আবার কোথাও আংশিকভাবে হেলে পড়েছে। এতে ধানের শীষ মাটির সংস্পর্শে এসে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দোরমুটিয়া গ্রামের কৃষক হুমায়ূন কবির, আব্দুস সামাদ ও আব্দুল ওয়াদুদ জানান, আকস্মিক এই ঝড়ে তাদের ক্ষেতের ধান পড়ে গেছে। দ্রুত ধান কাটা না গেলে চিটা হয়ে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
একই চিত্র বেলকাটি গ্রামেও। কৃষক শহিদুজ্জামান বলেন, “চোখের সামনে সব ধান মাটিতে লুটিয়ে আছে। এই ধানই ছিল আমাদের সারা বছরের ভরসা। ঋণ নিয়ে চাষ করেছি, এখন কীভাবে সেই টাকা পরিশোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
কৃষকদের মতে, ঝড়ের সময় বাতাসের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অনেক ক্ষেতেই শক্ত গাছও টিকে থাকতে পারেনি। এছাড়া সাম্প্রতিক আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অতিরিক্ত সারের ব্যবহারের কারণে ধানের গাছ কিছুটা নরম হয়ে পড়েছিল, যা ঝড়ে সহজেই লুটিয়ে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে ধান পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ ধান পাকার কাছাকাছি থাকায় চিটা হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। দ্রুত ধান কেটে ফেলতে পারলে ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

