গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পাওনা টাকার দায়ে স্বামী ও স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করেছে পাওয়ানাদার অসীম মোল্যা ও তার লোকজন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী ও স্ত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নেয়ার পর স্ত্রী জিমি আক্তারকে (৩০) কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করে এবং স্বামী নুর আলম মুন্সীকে (৩৫) উন্নত চিকিসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । রোববার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের পাইকদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত নুর আলমের ভাই হাবিবুর রহমান মুন্সী বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করে । পরে পুলিশ তরিৎগতিতে অভিযান চালিয়ে ৭জন আসামীকে গ্রেফতার করে (৪ জুলাই) সোমবার বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করে ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে পুলিশ আবেদন করেন । পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের পাইকদিয়া গ্রামে নুর আলম পেশায় একজন কৃষক। আর্থিক সংকটের কারণে ইরি ধানের মৌসুমে চাষাবাদের জন্য একই গ্রামের হালিম মোল্যার ছেলে অসিম মোল্যার নিকট থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ঋণ নেয়। শর্ত থাকে যে, উক্ত টাকা মৌসুম শেষে ছয় মাস পরে তাকে ফেরৎ দিবে এবং অতিরিক্ত ৫০ মণ ধান দিবে । এই টাকা নেয়ার সময় গ্রান্ডটার হিসেবে স্ত্রী জিমি আক্তারের নামের ব্যাংকের চারটি চেক অসীম মোল্যাকে প্রদান করে। এ বছর আকস্মিক বর্ষার পানি চলে আসায় ধান সম্পুর্ণ ভাবে বিনষ্ট হয়। এতে করে ঋণ নেয়া টাকা যথাসময়ে ফেরৎ দিতে পারেনি এই দম্পত্তি। এ নিয়ে একাধিকবার তাদের মারপিট ও খুন জখম করার হুমকি প্রদান করে। স্থানীয় ভাবে একটি মৌখিক আপোষ নিষ্পত্তির মাধ্যমে আগামী ৩০ শে কার্তিক ঋণ কৃত টাকা ফেরৎ দেয়ার সিন্ধান্ত হলে তারা উভয় পক্ষ মেনে নেয়। কিন্তু রোববার (৩ জুলাই) রাতে পাওয়ানাদার অসীম মোল্যা পুনরায় সালিশের কথা বলে নুর আলম মুন্সী ও তার স্ত্রী জিমিকে তাদের বাড়িতে যেতে বলে। পরে নুর আলম মুন্সী ও তার স্ত্রী জিমি আক্তার সরল বিশ্বাসে অসীম মোল্যার বাড়িতে যায়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে অসীম মোল্যা ও তার লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্বামী নুর আলম মুন্সী ও স্ত্রী জিমি আক্তারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে পরিবারের লোকজন তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মুকসুদপুর হাসপাতেল আনার আগেই জিমি আক্তারের মৃত্যু হয় এবং তার স্বামী নুর আলম মুন্সীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।
মুকসুদপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিলয় জানান, জিমি আক্তারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নুর আলম মুন্সীর অবস্থার অবনতি দেখে সাধারণ চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মুকসুদপুর থানার ওসি মো. আবু বকর মিয়া নবধারাকে বলেন, টাকা পয়সা লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো, লাভে ধান দেয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা নিয়েছিল । সেই টাকা যথাসময় পরিশোধ না করায় সালিশের কথা বলে নুর আলম ও তার স্ত্রী জিমি আক্তারকে আসামীরা তাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর করলে জিমি বেগম খুন হয়। নুর আলম আহত হলে তাকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আহত নুর আলমের ভাই হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ২৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করলে আমরা তরিৎগতিতে ৭ জন আসামীকে গ্রেফতার করে সোমবার ( ৪ জুলাই) বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করেছি এবং ৭দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছি। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.