স্টাফ রিপোর্টার, নড়াইল
নড়াইলে চলতি খরিপ-২ মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সরকারি প্রণোদনা ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে এ বছর জেলার কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে। তিনটি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমনের আবাদ হওয়ায় উৎপাদনও বেড়েছে। নতুন ধান বাজারে মণপ্রতি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তিনটি উপজেলায় রোপা আমন আবাদে ৪৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৪৩ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০ হাজার ১৪০ হেক্টর, লোহাগড়ায় ১১ হাজার ২৬০ হেক্টর এবং কালিয়ায় ১২ হাজার ৫৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিপু মজুমদার জানান, উচ্চফলনশীল জাতের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের ধানের আবাদও হয়েছে ব্যাপক হারে। এর মধ্যে উফশী বারি ধান-৭৫, ৮৭; বিনা ধান-৭, ১৭; হাইব্রিড গোল্ড, এ টু জেড-৭০০৬ এবং স্থানীয় জাতের জাবড়া, কালোজিরা, চিনিগুঁড়া, দিঘা, ক্ষীরকনসহ বিভিন্ন জাত রয়েছে।
লোহাগড়া উপজেলার করফা-কালনা গ্রামের কৃষক আছাদ শিকদার বলেন, “দুই একর জমিতে আমন ধান করেছি। ফলন খুবই ভালো হয়েছে। বাজারে দামও মোটামুটি ভালো—তাই লাভের আশা করছি।”
কালিয়া উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের কৃষক অনিল কুমার বিশ্বাস বলেন, “আবহাওয়া ভালো থাকায় ধানের ফলন ব্যাপক হয়েছে। তিন একর জমিতে ধান চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি।”
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “সরকারি প্রণোদনায় কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে জেলার সব উপজেলায় ধান কাটার কাজ শেষ হবে।

