বগুড়া প্রতিনিধি
বিশ্বব্যাপী রোডক্র্যাশে নিহত ও আহতদের স্মরণে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব স্মরণ দিবস’। এর অংশ হিসেবে বগুড়ায় এবারও নানা আয়োজনে দিনটি পালন করা হয়েছে। “মনে রেখো, সমর্থন করো, কাজ করো”—এ প্রতিপাদ্যে শনিবার সকালে শহরের সাতমাথায় পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ (পিআইজি), বগুড়া-এর উদ্যোগে এবং স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট-এর সহযোগিতায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা নীরব শোক, প্রতিবাদ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, ২০২১ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১ হাজার ৫৭৮ জন মানুষ। এসব মৃত্যু যেমন পরিবারের দীর্ঘশোক ও দুর্ভোগ তৈরি করে, তেমনি দেশের জন্যও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন পিআইজি বগুড়ার আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক (পিপি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, বগুড়া)। তিনি বলেন, “নিরাপদ সড়ক আমাদের মৌলিক অধিকার। একটি দুর্ঘটনা শুধু একজনকে নিয়ে যায় না, পুরো পরিবারকে সংগ্রামের মুখে ঠেলে দেয়। এই দিনটি শোক নয়, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের দিন।”
তিনি আরও বলেন, “রোডক্র্যাশ কমাতে হলে শক্তিশালী নীতি, কার্যকর আইন এবং তার সঠিক প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।”
পিআইজি সদস্য শেখ মোহাম্মদ আবু হাসানাত বলেন, “সড়কে হতাহতদের স্মরণ, জরুরি সেবাদাতাদের স্বীকৃতি এবং দুর্ঘটনা রোধে প্রমাণ-ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ এখন অত্যন্ত প্রয়োজন।”
আরেক সদস্য রোমমানা খাতুন বলেন, “দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক অকালমৃত্যু ও পঙ্গুত্ব রোধ করা সম্ভব।”
সদস্য নিভা রানী সরকার বলেন, “রোডক্র্যাশ শুধু মানুষের প্রাণই নেয় না, জাতির অর্থনীতিতেও বড় ক্ষতি ডেকে আনে।”
সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদ আলম বলেন, “অব্যবস্থাপনা, গতির প্রতিযোগিতা, লাইসেন্সহীন চালক ও নজরদারির ঘাটতি দুর্ঘটনার মূল কারণ। এগুলো বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।”
মেন্টর শেখ আবু রাহাত মো. মাসরুকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে পিইউপি-এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খসরু, প্রকল্প অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন, পিআইজি সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

