মাসুদ রানা, খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সারের কৃত্রিম সংকটের মধ্যেও রাতের আঁধারে খুচরা দোকানে সার পাচারের অভিযোগ উঠেছে পাকেরহাটের ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহাদেব চন্দ্র চন্দ-এর মালিক মহিতোষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে।
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নিয়ম-নীতি ছাড়া সার বিক্রি ও কৃষকদের হয়রানির বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে প্রকাশ পায়।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা গত কয়েকদিন ধরে অভিযোগ জানাচ্ছিলেন—ডিলারের দোকানে গেলে সার নেই বলা হয়, আবার পাওয়া গেলে বাড়তি দাম দিতে হয়। কৃষকদের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার পাকেরহাট বাইপাস সড়কে তিনটি ভ্যানে করে খুচরা দোকানে সার পাঠানোর সময় সংবাদকর্মীরা ভ্যানগুলো আটক করেন। ভ্যানচালকদের কাছে কাগজপত্র জানতে চাইলে তারা কোনো বৈধ নথি বা উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। বিষয়টি আরও সন্দেহজনক মনে হলে সাংবাদিকরা ডিলার মহিতোষ চন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চান।
কিন্তু অভিযোগ আমলে নেওয়ার পরিবর্তে মহিতোষ চন্দ্র স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলে সারবোঝাই ভ্যানগুলো নির্দিষ্ট খুচরা দোকানে সরিয়ে নেওয়া হয়। শান্ত ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ অব্যাহত থাকে।
স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম, আইজুল ইসলাম ও ওমর আলী বলেন, “ডিলারের দোকানে গেলে বলে সার নাই, আবার যখন পাওয়া যায় তখন বেশি দাম নেয়। অথচ রাতের অন্ধকারে সার পাচার হচ্ছে—এসব দেখার কেউ নেই।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, কৃষি অধিদপ্তরের নির্দেশনায় প্রতিটি ডিলারকে খুচরা দোকানে সার দিলে অবশ্যই রশিদ প্রদান করতে হয়। অন্যত্র সার পাচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সাংবাদিকদের সঙ্গে ডিলারের খারাপ আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটা অন্যায় হয়েছে। সাংবাদিকদের অনিয়ম মনিটরিং করার এখতিয়ার আছে। ঘটনাটি আমলে নেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

