জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারি নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। আমন মৌসুম শেষে আলু মৌসুমের প্রস্তুতির এই সময়ে সার ডিলারদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি মূল্য তালিকা অমান্য করে অধিক দামে সার বিক্রি করছে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা, আর এসব অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নেই।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলায় বিসিআইসির ১১ জন ও বিএডিসির ২৫ জনসহ মোট ৩৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। কিন্তু ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ডিলারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকদের। অনেক সময় বিক্রির রশিদও দেওয়া হচ্ছে না। রশিদ চাইলে সার না দেওয়া ও দোকান থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ও ডিএপি সারের জন্য অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও সরকারি দামে সার পাওয়া গেলেও বাধ্যতামূলকভাবে দস্তা ও বোরনজাত জৈব সার কিনতে হচ্ছে, যেগুলোর প্রয়োজন বা কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে কৃষকদের মধ্যে।
কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামের কৃষক তাজমহল হোসেন বলেন, “আলুর চাষের সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। কিন্তু সার কিনতে গিয়ে প্রতি বস্তায় সরকারি দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা বেশি দিচ্ছি। বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনেই রোপণ করছি।”
আরেক কৃষক রাশিদুল আলম বলেন, “অনেক দোকানে গিয়েও ন্যায্যমূল্যে সার পাইনি। শেষে এক ডিলার সরকারি দামে সার দিলেও সাথে বেশি দামের জৈব সার নিতে বাধ্য করলেন।”
এদিকে খুচরা বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে বেশি দামে এনে বিক্রি করতে হয়, তাই দামও বেশি নিতে হচ্ছে।”
হাতিয়র বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিজেই মূল ডিলারের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনেছি। তাই কৃষকদের কম দামে দেওয়ার সুযোগ নেই।”
জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এলোমেলোভাবে ডিলার নিয়োগের কারণে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। হাত বদল বাড়লে দামও বাড়বে।”
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, “বাজার মনিটরিং চলছে। কেউ যদি বেশি দামে সার বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আক্তার জাহান বলেন, “সরকারি দামের বাইরে সার বিক্রির সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2025 Nabadhara. All rights reserved.