নবধারা ডেস্ক
ইসলামী চিন্তাধারা ও সুফি মনোবিজ্ঞানে নফস মানুষের অন্তর্গত সত্তা বা প্রবৃত্তিকে বোঝায়, যা তার ভালো-মন্দ, কামনা-বাসনা ও চারিত্রিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। নফসের সঠিক পরিচয় ও পরিশুদ্ধি মানুষকে ইমান ও তাকওয়ার পথে অগ্রসর হতে সহায়তা করে বলে মনে করেন আলেম ও গবেষকরা।
নফসের অর্থ ও ধারণা, নফস অর্থ প্রাণ, আত্মা, মন, প্রবৃত্তি, ব্যক্তি বা স্বয়ং।
ইসলামী পরিভাষায় নফস হলো মানুষের ভেতরের সেই সত্তা, যা তাকে পাপ কিংবা পুণ্যের দিকে পরিচালিত করে। এটি রূহ থেকে ভিন্ন, রূহ হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে ফুঁকে দেওয়া ঐশ্বরিক উপাদান, যা দেহ ও নফসের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে।
নফসের তিনটি প্রধান স্তর, ইসলামিক মনোবিজ্ঞানের আলোকে নফসের তিনটি প্রধান স্তর রয়েছে
১. নফসে আম্মারা, এই স্তরের নফস মানুষকে মন্দ কাজের দিকে টানে। লোভ, হিংসা, অহংকার ও অবৈধ কামনা এই স্তরের বৈশিষ্ট্য।
২. নফসে লাওয়ামা, এটি অনুতপ্ত আত্মা। ভুল করার পর নিজেকে তিরস্কার করে এবং সংশোধনের দিকে ধাবিত হয়। কুরআনের সূরা কিয়ামাহতে এই নফসের উল্লেখ রয়েছে।
৩. নফসে মুতমাইন্নাহ, প্রশান্ত ও স্থির আত্ম , যা আল্লাহর সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট থাকে। এই স্তরে পৌঁছালে অন্তরে প্রশান্তি ও আত্মিক স্থিরতা আসে (সূরা ফজর ৮৯:২৭–৩০)।
নফস নিয়ন্ত্রণ ও পরিশুদ্ধির গুরুত্ব
ইসলামী শিক্ষায় নফসকে দমন নয়, বরং পরিশুদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইবাদত, আত্মসমালোচনা, সৎকর্ম ও আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে নফসের খারাপ প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে আলেমরা মনে করেন।
প্রচলিত বাণী, “যে নিজেকে চিনল, সে তার রবকে চিনল”–এর আলোকে নফসকে জানা ও নিয়ন্ত্রণ করাকে আল্লাহকে জানার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হয়।
নফস ও রূহের পার্থক্য, নফস মানুষের শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক সত্তা, যা প্রবৃত্তি দ্বারা প্রভাবিত।
রূহ, আল্লাহপ্রদত্ত ঐশ্বরিক উপাদান, যা নফসকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে।
ইসলামী জীবনদর্শনে নফসের জ্ঞান শুধু তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তব জীবনে আত্মশুদ্ধির একটি কার্যকর পথ। নফসের স্তরগুলো বোঝা ও পরিশুদ্ধির চর্চা মানুষকে নৈতিক উন্নতি ও আত্মিক শান্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে এমনটাই মনে করেন ধর্মীয় চিন্তাবিদরা।

