হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পালিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে মারধর ও অপমান করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা এলাকায়। নির্যাতনের শিকার মাওলানা আব্দুল করিম (৩৫) সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম। তিনি হাতিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শুন্যেরচর গ্রামের মাহমুদুল হকের ছেলে। অপরদিকে সংশ্লিষ্ট ছাত্রী সোনাদিয়া চৌরাস্তা মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
নির্যাতনের শিকার মাওলানা আব্দুল করিম সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে অভিযোগ করে বলেন, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে বলে কৌশলে তাকে এলাকায় ডেকে নিয়ে আসে। পরে মেয়েটিকে তার কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় জুতার মালা পরিয়ে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সুমন, শাহাদাত, ছাইফুলসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন তাকে চরচেঙ্গা বাজারের সেক্রেটারি আব্দুল মন্নান রানার বাড়িতে সারাদিন আটকে রাখা হয়। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একতরফা শালিস বসিয়ে শরিয়াহ মোতাবেক সম্পন্ন বিয়েটি বাতিল করে তালাক দেওয়া হয় এবং দুই লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা ধার্য করা হয়। এ সংক্রান্ত স্বাক্ষরিত কাগজপত্র আব্দুল মন্নান রানার কাছে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
মাওলানা আব্দুল করিম জানান, মেয়েটির সঙ্গে পূর্বে পার্শ্ববর্তী জাহাজমারা এলাকার শরীফ নামের এক প্রবাসীর বিয়ের কথা ছিল। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর ফর্দনামা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর ওই প্রবাসী দেশে এসে সাক্ষাতের পর মেয়েটি তাকে পছন্দ না করায় পালিয়ে যায়। পরদিন হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় হঠাৎ দেখা হলে ঘটনার বিস্তারিত জানার পর উভয়ের সম্মতিতে শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমার কোনো অপরাধ থাকলে আইনি শাস্তি মেনে নিতে রাজি আছি। কিন্তু এভাবে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতনের বিচার চাই।”
এ বিষয়ে ছাত্রীর বাবা ইসমাইল বলেন, “মাওলানা করিমের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি আমার মেয়েকে পড়াতেন। তার স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। কেন এমন ঘটনা ঘটালেন—তা আমি মেনে নিতে পারছি না।” তিনি জানান, তার মেয়ের বয়স ১৬ বছর এবং বর্তমানে সে তার কাছেই রয়েছে। তবে জাহাজমারা এলাকার প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ের ফর্দনামার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। মাওলানাকে জুতার মালা পরানো ও মারধরের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও দাবি করেন।
সোনাদিয়া চৌরাস্তা বাজার এলাকার ইউপি সদস্য মোজহার উদ্দিন বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। তবে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরানো এবং একতরফা শালিসি রায় কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।”
জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, “ঘটনার সময় চরচেঙ্গা এলাকার আব্দুল মন্নান রানা নামের একজন ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিল। আমি বলেছি, কেউ অপরাধ করলে তাকে থানায় সোপর্দ করতে। পরে আর কেউ যোগাযোগ করেনি। ভুক্তভোগী চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।”
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.