নবধারা ডেস্ক
কুরআনে ‘হক’ বলতে সত্য, ন্যায়, অধিকার ও আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বোঝানো হয়েছে। এটি শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত, সামাজিক ও মানবিক জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
হকের মৌলিক বিভাজন : কুরআন অনুযায়ী হক দুই প্রকার (১.)আল্লাহর হক (২)বান্দার হক।
আল্লাহর হকের মধ্যে ঈমান ও ইবাদত অন্তর্ভুক্ত, আর বান্দার হকের মধ্যে মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের অধিকার রয়েছে।
সত্য গোপন নিষিদ্ধ : আল্লাহ তায়ালা সত্য গোপন করতে ও মিথ্যার সাথে মেশাতে নিষেধ করেছেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও সত্য প্রকাশ করাই মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।
এতিম ও অসহায়দের অধিকার রক্ষা : কুরআনে এতিমদের সম্পদ আত্মসাৎ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের অধিকার যথাযথভাবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ন্যায়সঙ্গত সম্পদ ও লেনদেন : ইসলামে সম্পদের মালিকানা স্বীকৃত হলেও তা অর্জন ও ব্যবহারে হালাল ও ন্যায়নীতি অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সৎকর্মে পারস্পরিক সহযোগিতা : কুরআন সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে পারস্পরিক সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহায়তা করতে নিষেধ করেছে।
কিয়ামতের দিনে বান্দার হকের বিচার : বান্দার হক নষ্ট করলে কিয়ামতের দিন কঠিন হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। হক আদায় না হলে আল্লাহর ক্ষমা লাভ কঠিন হতে পারে।
সমাজ গঠনে হকের গুরুত্ব : কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী হক একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

