ফরিদপুর প্রতিনিধি
তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জনজীবন। গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং ভোর থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে সড়ক ও জনপথ ঢেকে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্ন আয়ের মানুষজন।
প্রচণ্ড শীতের কারণে বাধ্যতামূলক প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে সড়কে যানবাহনের চলাচলও তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তবে জীবিকার তাগিদে অনেকেই ঠান্ডা উপেক্ষা করে কাজে বের হচ্ছেন। রিকশাচালক মো. জাকির শেখ বলেন, “শীতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কুয়াশার কারণে একটু দেরিতে বের হই। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না, তাই ঠান্ডা সহ্য করেই রিকশা চালাতে হয়।”
শীত নিবারণের জন্য বিভিন্ন সড়কের মোড়, চায়ের দোকানের সামনে ও খোলা জায়গায় লাকড়ি জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে। সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হওয়া কুয়াশা পরদিন সকাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকছে, যা চলাচলে বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
এদিকে তীব্র শীত থেকে বাঁচতে উষ্ণ পোশাকের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় মধুখালীর পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারাও কম দামে জ্যাকেট, সোয়েটার, কম্বলসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র কিনতে এসব দোকানে ভিড় করছেন।
ক্রেতা হুমায়ন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ, তাই অল্প দামে শীতের কাপড় কিনতে এখানে এসেছি। আমাদের মতো অনেকেই এখান থেকে পোশাক নিচ্ছে।” আরেক ক্রেতা আরশি বেগম জানান, নতুন কাপড়ের দোকানের তুলনায় পুরোনো কাপড়ের বাজারে ভালো মানের পোশাক কম দামে পাওয়া যায় বলে তিনি প্রতিবছরই এখানে কেনাকাটা করেন। মোছা. কাকলী বেগম বলেন, “বাচ্চাদের জন্য কম দামে গরম কাপড় কেনা যায় বলেই এখানে এসেছি। নতুন কাপড়ের দাম অনেক বেশি।”
বর্তমানে পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে মাফলার ১৫০ টাকা, জ্যাকেট ৩০০ টাকা, চাদর ও সোয়েটার ৩০০ টাকা এবং হাতমোজা বা পামোজা ২০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদিও ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি।
পুরোনো কাপড়ের দোকানদার মো. আরিফ বলেন, “শীত বাড়ার পর থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকছে।”

