মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪৫) গুলি করে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পিতা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে মঙ্গলবার মনিরামপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর ১৪।
এদিকে হত্যার ঘটনার একদিন পার হলেও পুলিশ এখনো হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে প্রকাশ্যে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়–য়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। তিনি কপালিয়া বাজারে একটি বরফ তৈরির কারখানার মালিক ছিলেন। পাশাপাশি কেশবপুর উপজেলার কাটাখালী বাজারে তাঁর একটি মাছের আড়ৎ ছিল। এছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
নিহতের বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী (৬৪) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তিনি কেশবপুর উপজেলার চুয়াডাঙ্গা কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং চার বছর আগে অবসরে যান। রানা প্রতাপ বৈরাগী দুই ভাইবোনের মধ্যে বড় ছিলেন। তাঁর বোনের বিয়ে হয়েছে এবং তাঁর ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, “রানা বরফকল ও মাছের আড়তের ব্যবসার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করত। গান-বাজনা করত, এলাকায় খুব জনপ্রিয় ছিল। সোমবার বিকেল তিনটার দিকে কপালিয়া বাজারের বরফকলে যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে তার মৃত্যুর খবর পাই।” তিনি তাঁর ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে রানা প্রতাপ বৈরাগী কপালিয়া বাজারের বরফকলে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে আসা তিনজন দুর্বৃত্ত তাঁকে বরফকল থেকে ডেকে কপালিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে একটি গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাঁর মাথায় গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় একটি হত্যা মামলা এবং কেশবপুর থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা রয়েছে।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রজিউল্লাহ খান বলেন, “হত্যার কারণ এখনও উদঘাটন করা যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ইমদাদুল হক বলেন, “রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আশা করছি, দ্রুতই হত্যার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।”
এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, ডিবি ও পুলিশের একাধিক দল যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

