একে মিলন,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামসংলগ্ন হাওরে সরকারি খাস জমির মাটি অবৈধভাবে বিক্রির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। খাস জমির বন্দোবস্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে মাটি বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিমপুর গ্রামসংলগ্ন হাওরের একটি সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত পান নুরুল হাসান নামের এক ব্যক্তি। তবে বন্দোবস্তের শর্ত অনুযায়ী জমির শ্রেণি পরিবর্তন কিংবা মাটি কেটে বিক্রির কোনো সুযোগ না থাকলেও তিনি অবৈধভাবে ওই জমির মাটি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের কাছে বিক্রি করে দেন। মাটি বিক্রির পর তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইব্রাহিমপুর গ্রামের শিহাবের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে দেদারসে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সেখানে বিশাল আকারের পুকুর খনন করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে গভীর করে মাটি কাটার কারণে পাশের ফসলি জমি ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “সরকারি খাস জমি ভূমিহীন মানুষের বসবাস বা চাষাবাদের জন্য বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। কিন্তু নুরুল হাসান আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মাটি বিক্রি করে গুরুতর অপরাধ করেছেন। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া দরকার।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা জেরিন বলেন,“সরকারি খাস জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা মাটি বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি শর্ত লঙ্ঘন করে মাটি বিক্রি করেন বা পুকুর খনন করেন, তবে তার বন্দোবস্ত বাতিলসহ আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইব্রাহিমপুর ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

