রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
রামপালে সাংবাদিক সুজন মজুমদারের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রামপালে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্ত করে বাদির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন সাংবাদিক সমাজ।
জানা গেছে, উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের জগারহুলা মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত উপেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার ছেলে রিপন বিশ্বাস সরকারি রাস্তার জায়গা দখলে নিয়ে দীর্ঘদিন ভোগদখল করার চেষ্টা করে আসছেন।
এ ঘটনায় রাস্তার জায়গা দখলমুক্ত করতে গ্রামবাসী রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রাহনের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তীকে নির্দেশনা দেন।
সহকারী কমিশনার সার্ভেয়ার দ্বারা মাপজোক করে দখলীকৃত রাস্তার জায়গা বের করে লাল নিশান টানিয়ে দেন। লিখিত অভিযোগে গ্রামবাসীর স্বাক্ষর থাকলেও সেখানে সাংবাদিক সুজন কোন স্বাক্ষর করেননি বা ওই জমির স্বার্থের সাথেও কোনভাবে তিনি জড়িত নন।
তার কোন জমি উল্লেখিত খাতিয়ানেও নেই। এরপরেও ছাত্রলীগের সাবেক নেতা দিপল বিশ্বাসের বড়ো ভাই ছাত্রলীগ সদস্য রিপন হয়রানির উদ্যেশ্যে মামলাটি করে।
এ বিষয়ে বাদী রিপনের মুঠোফোনে কথা হলে সে বলে আমার জায়গা। জোর করে সার্ভেয়ার মেপে লাল নিশান দিয়েছেন। প্রশ্ন করা হয় ওখানে তো সাংবাদিক সুজনের কোন জমি নেই? তবে তাকে কেন বিবাদী করা হলো? এর কোন সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি। তবে রিপন দাবী করেন,সে ছাত্রলীগ করতো না, তার ভাই দিপল ছাত্রলীগ করতো।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসক্লাব রামপাল এর নেতৃবৃন্দ। তারা অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করার দাবি করেছেন নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন, প্রেসক্লাব রামপাল এর আহবায়ক মোতাহার হোসেন মল্লিক, সদস্য সচিব মো. মেহেদী হাসান, সদস্য এ, এইচ নান্টু, মো. রেজাউল ইসলাম, কবির আকবর পিন্টু, এম, এ সবুর রানা, সুজন মজুমদার, মো. তারিকুল ইসলাম, মোল্লা হাফিজুর রহমান, তুহিন মোল্লা, লায়লা সুলতানা, মুর্শিদা পারভিন, হারুন শেখ, আব্দুল্লাহ শেখ প্রমুখ।
এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা অভিজিৎ চক্রবর্তীর দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে সার্ভেয়ার দ্বারা পরিমাপ করে সরকারি রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। সাংবাদিক সুজনের এখানে কোন স্বার্থই নেই। তার নামে মামলা করা দুুঃখজনক। আমরা বিষয়টি দেখবো।
উল্লেখ, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মেসবাহ উদ্দিনের আদালতে গত ইংরেজি ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ৬৯০ নং একটি মিস মামলা করা হয়। মামলায় সুজন মজুমদার ও তীলক বিশ্বাসের নামে মামলা করে ছাত্রলীগ নেতা রিপন বিশ্বাস।

