আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে দুই ভাইয়ের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ থামাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে এক চাচাত ভাই নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম জহিরুল ইসলাম সিকদার (৪০)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মুনসুর সিকদার (৬৫) ও তার আপন ভাই ফরিদ সিকদারের মধ্যে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ২৬ শতাংশ (৮ কড়া) জমি নিয়ে প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
শনিবার সকালে ওই বিরোধের জেরে মুনসুর সিকদার ছুরি হাতে নিয়ে তার ভাই ফরিদ সিকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন শামসু সিকদারের ছেলে ও মুনসুরের চাচাত ভাই জহিরুল ইসলাম। বাধা দিতে গেলে মুনসুর সিকদার জহিরুলের বাম পাঁজরে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা ও স্বজনরা জহিরুলকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শালিসদার মো. লিমন হাওলাদার বলেন, মুনসুর ও ফরিদ সিকদারের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কাগজপত্র অনুযায়ী মুনসুর সিকদারের ওই জমিতে কোনো মালিকানা নেই, তবুও তিনি দাবি করে আসছিলেন।
নিহতের স্ত্রী নুপুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মোর স্বামীরে কির লইগ্যা অরা মারছে, আমি এইয়ার বিচার চাই।” নিহতের ছেলে বিলাপ করে বলেন, “মোর বাপেরে অরা মাইর্যা মোগো এতিম বানাইয়া দিছে।”
নিহতের মা রোকেয়া বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ মুনসুর সিকদারকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রী শেফালি বেগমকেও থানায় আনা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.