মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে আলোচিত রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যা মামলার এক আসামি মিজানুর রহমানকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহ¯পতিবার সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। আটক মিজানুর রহমান (৪০) মনিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কুমারঘাটা গ্রামের মৃত আজিজ সরদারের ছেলে। তিনি রোজিপুর গ্রামের প্রভাষক সঞ্জয় হত্যা মামলার তালিকাভূক্ত আসামী।
আটকের পরদিনই শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টায় কপালিয়া বাজারে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখা লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো বাজার এলাকা কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক দোকানি নিরাপত্তার আশঙ্কায় দ্রুত দোকান বন্ধ করে দেন।
বিস্ফোরণে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখা পরিচালনাকারী ফিজাজ উদ্দীনের দোকানের কাঁচের দরজা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের সময় দোকানে উপস্থিত ছিলেন ফিজাজ উদ্দীনের দুই কর্মচারী, যারা অক্ষত রয়েছেন। দোকান মালিক ফিজাজ উদ্দীন জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে কয়েকদিনের জন্য এলাকার বাইরে ছিলেন। তিনি বলেন, “হঠাৎ এমন ঘটনায় আমরা সবাই আতঙ্কিত। দোকানে নিয়মিত গ্রাহক আসেন, সেখানে এমন বিস্ফোরণ খুবই উদ্বেগজনক।”
স্থানীয়রা জানান, গত ৫ জানুয়ারি কপালিয়া বাজার এলাকায় বরফকল মালিক রানা প্রতাপকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও কপালিয়া বাজারে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এই বিস্ফোরণের মাধ্যমে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি অথবা এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া কপালিয়া বাজার একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ ছড়ানোর উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
ঘটনার পর মনিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) বদরুজ্জামান এবং নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মোঃ রেজাউল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। তারা জানান, কপালিয়া বাজারে ককটেল সদৃশ কিছু বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তবে এতে কারো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

