শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধি
স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবে থানা পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণ, বৃদ্ধ মায়ের ওপর বর্বরোচিত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহন না করে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা গ্রহনে ন্যায়বিচারের প্রাপ্তিতা নানা প্রশ্ন উঠেছে। এমন অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রতিপক্ষের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় পুলিশী হয়রানির শংকা ও চরম
নিরাপত্তাহীনতায় অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভূক্তভোগী ও তার পরিবার।
প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক প্রভাব, অবৈধ পন্থায় ও কৌশলে পিতার সম্পত্তি লিখে নেয়া, পাওনা টাকায় চাওয়ায় বৃদ্ধ মাকে মারপিটের মাধ্যমে রক্তাক্ত জখমের মামলা গ্রহনে অনীহা।
এমনকি পুলিশের পক্ষপাতদৃষ্ট আচরণ এবং অন্যত্র পালিয়ে থেকে ন্যায় বিচারের দাবীতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি , সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভূক্তভোগী রিয়াজ উদ্দিন।
তিনি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ধানকুন্ঠি (কুমারপাড়া)গ্রামের মোঃ রোস্তম আলীর ছেলে। এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি বাজারে ডিমের ব্যবসায়ী।
ভূক্তভোগী রিয়াজ উদ্দিন ১৪ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে এক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠের মাধ্যমে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের গত ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০ টার দিকে আমার মা মোছাঃ রাহেলা বেগম (৭০) আমাদের প্রাপ্য টাকা,গত মৌসুমের ধান বিক্রির ৩৫ হাজার) টাকা চাইতে প্রতিবেশী ও সৎ ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ হাফিজুর রহমানের বাড়িতে যান। টাকা চাওয়ার অপরাধে তারা আমার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। মা এর প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষ মোছাঃ রুকসানা, মোছাঃ বিলকিছ খাতুন, মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং মোঃ হাফিজুর রহমান সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার বৃদ্ধ মায়ের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা টিপে ধরে এবং বুকে উঠে এলোপাতাড়ি লাথি মারে। এতে আমার মা অজ্ঞান হয়ে ঘটনাস্থলেই রক্তবমি করতে থাকেন।
স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ হাফিজুর রহমান সম্পর্কে আমার সৎ ভাই হওয়ার সুবাধে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারা করার দীর্ঘদিন ধরে গভীর ষড়যন্ত্র করে আসছিল।
তাছাড়া প্রতিপক্ষরা বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠন ‘যুবদল’ এর রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় এলাকায় অবৈধভাবে রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে আমার বাবা মোঃ রোস্তম আলী (৭২) চিকিৎসার কথা বলে তারা আমার অসুস্থ বাবাকে গোপনে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে গিয়ে তার স্থাবর সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেয়।
এটি একটি জঘন্য প্রতারণা ও অন্যায় দখল। অথচ আমার বাবা একজন গুরুতর অসুস্থ, বার্ধক্যজনিত কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম মানুষ। বাবার ভালো-মন্দ বোঝার মতো কোনো মানসিক সক্ষমতা নেই। তার প্রমান এলাকার অসংখ্য মানুষ জানেন।
প্রতিপক্ষের দ্বারা আমার বৃদ্ধ মায়ের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনার পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট তাড়াশ থানায় গিয়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু থানা পুলিশ আমার বৃদ্ধ মায়ের ওপর হামলার অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে উল্টো প্রতিপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গত ৮ তারিখে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা নং: ০৯ হিসেবে রেকর্ড করে।
এ মিথ্যা মামলায় আমাকে, আমার ভাই এবং পরিবারের সদস্যদের আসামি করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত ভুক্তভোগী হিসেবে আমার মা আজ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন।
তাছাড়া সিরাজগঞ্জের সদর হাসপাতালের বিছানায় তার মা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে না পারছেনা। পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কসহ প্রতিপক্ষের দেয়া প্রাণনাশের হুমকী ধামকিতে পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচেছ এমন অভিযোগ ভূক্তভোগী রিয়াজের।
তিনি অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় হয়রানি হাত থেকে বাচতে এমনকি থানা পুলিশের সঠিক তদন্ত পূর্বক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আইনী সহায়তা চেয়ে ন্যায় বিচারের দাবীতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার সিরাজগঞ্জ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

