হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালে হাই-মাস্ট লাইট পোস্টে বিদ্যুৎ শকে একসঙ্গে অসংখ্য অতিথি পাখির মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের গাফিলতি, ত্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং নকশা ও অমানবিক ব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি।
জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই ইয়ার্ড এলাকায় হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের আশপাশে এক-দুটি করে মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। তবে বিষয়টি গুরুত্ব না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শনিবার সকালে কার্গো ইয়ার্ডের একটি হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ সংযোগ বক্সের তালা খুলে ভেতরে প্রায় ৩০টি মৃত পাখি পাওয়া যায়। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, বন্দরের ভেতরে থাকা প্রায় প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টেই একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্থা বিদ্যমান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত পাখিগুলো আবাবিল প্রজাতির অতিথি পাখি বলে ধারণা করা হচ্ছে। শীত ও রাতের তীব্র আলো থেকে আশ্রয় নিতে এসব পাখি হাই-মাস্ট লাইট পোস্টের ফাঁকা অংশে ঢুকে পড়ে। কিন্তু ল্যাম্পপোস্টে থাকা খোলা ও অপর্যাপ্তভাবে সুরক্ষিত বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে তারা বিদ্যুৎ শকের শিকার হয় এবং একে একে সেখানে মারা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী হাই-মাস্ট লাইটে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে সুরক্ষিত কাভার, পর্যাপ্ত ইনসুলেশন ও বন্যপ্রাণীবান্ধব নকশা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ডে এসব মানদণ্ড মানা হয়নি বলেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম হয়েছে।
পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলেন, বেনাপোল কার্গো ইয়ার্ড টার্মিনালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনায় বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের অবহেলার কারণে শুধু পাখির মৃত্যু নয়, ভবিষ্যতে মানুষের জন্যও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি কয়েকদিন আগে শুনেছেন এবং আগামীকাল ঢাকায় এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠাবেন। তবে তার এই বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশ সচেতন মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী প্রকৌশলীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং হাই-মাস্ট লাইটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত বন্যপ্রাণীবান্ধব ও নিরাপদভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

