নাহিদুজ্জামান শয়ন,খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
বহু শতাব্দী ধরে খোকসার মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কালীপূজার গ্রামীন মেলা এবার আর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। প্রশাসনিক অনুমতি না পাওয়ায় ৬০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি বাতিল করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবছর মাঘী অমাবস্যা উপলক্ষে খোকসা উপজেলার গড়াই নদীর তীরবর্তী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে কালীপূজাকে কেন্দ্র করে এ মেলা বসত। ধর্মীয় আয়োজন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলা খোকসার সব ধর্ম ও শ্রেণিপেশার মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। অনেকের কাছে এটি ছিল শুধু একটি মেলা নয়, বরং শৈশবের স্মৃতি, সামাজিক বন্ধনের প্রতীক।
এ বছর মেলার অনুমতি না পাওয়ায় পূজা কমিটি মেলার মাঠের প্রধান গেট তালা বন্ধ রেখে শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম চালু রেখেছে। মেলায় দোকান বসানো বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
মেলা বন্ধের খবরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখছেন—এটি খোকসার মানুষের আবেগের জায়গা, যা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
খোকসা কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অসীম কুমার বিশ্বাস বলেন,
“নিয়ম অনুযায়ী আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছিলাম। কালীপূজার ধর্মীয় কার্যক্রমের অনুমতি পাওয়া গেলেও মেলার অনুমতি পাওয়া যায়নি। দেশের আইন ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এ বছর মেলার আয়োজন থেকে বিরত রয়েছি।”
এ বিষয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, “মেলার অনুমতি দেয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ। কি কারনে মেলার অনুমতি দেয়নি তা জানা নেই। গেট বন্ধ রেখে পূজা করছে এ বিষয়ে কথা বলা হলে তিনি বলেন, ওরা মুর্তি পূজা করবে, কালীপূজা করবে, গেট বন্ধ রেখে না খোলা রেখে সেটা তাদের বিষয়। পূজা মন্দিরে পুলিশ প্রটেকশন আছে বলেও তিনি জানান।”
উল্লেখ্য, খোকসার কালীপূজা ও মেলার ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। এবার মেলাটির ৬১৬তম আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। প্রতি বছর সাড়ে সাত হাত উচ্চতার বিশাল কালীমূর্তি নির্মাণ ও গড়াই নদীর তীরে মেলা বসানো ছিল এ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে মেলা বাতিল হলেও আজ থেকে কালীপূজার ধর্মীয় কার্যক্রম যথাযথ আচার ও নিয়ম মেনে শুরু হয়েছে।

