বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবারও ফেসবুক লাইভে এসে বাবুগঞ্জ–মুলাদী বরিশাল-৩ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) রাতে তিনি তার নিজের ফেসবুকে লাইভে এসে বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি নতুন রূপে সক্রিয় হচ্ছে।
ভোটার ও প্রভাবশালী সামাজিক ব্যক্তিদের ভয়ভীতি দেখাতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা এবং তথাকথিত গ্রেপ্তার বাণিজ্য চালু হয়েছে, যেখানে স্থানীয় থানা পুলিশের একাংশ জড়িত।
লাইভ বক্তব্যে তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকায় যেসব ভোটার বা সামাজিকভাবে প্রভাবশালী মানুষ তার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের টার্গেট করে ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামির তালিকায় নাম জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে নির্দোষ মানুষ গ্রেপ্তার হচ্ছেন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই - আগস্টে দায়ের হওয়া আওয়ামী লীগের মামলাগুলোকে হাতিয়ার করে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
একটি ঘটনার বর্ণনায় তিনি বলেন, গত সপ্তাহে মুলাদীর নাজিরপুর ইউনিয়নে গেলে এক মা তার কাছে এসে অভিযোগ করেন যে ঢাকায় পড়াশোনা করা তার ছেলে জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। বাড়িতে আসার পর তাকে একটি পুরোনো আওয়ামী লীগের মামলায় গ্রেপ্তার করে চালান দেওয়া হয়েছে। এরপর এলাকায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, ‘নেতা এত বড় হলে জামিন করাতে পারছে না কেন?’
ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হিন্দু ও খ্রিস্টান নাগরিকদের মধ্যেও যারা তাকে সমর্থন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় জড়ানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব অভিযোগের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্তের কারণে জামিন প্রক্রিয়াও কার্যত বন্ধ থাকায় নির্দোষ মানুষগুলো দীর্ঘদিন কারাগারে আটকে পড়ছেন।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে ন্যায্যতা ও ইনসাফের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচন শেষ হলেও প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হবে না। এই বিষয়টি স্মরণ রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বাবুগঞ্জ ও মুলাদীতে তিনি কখনোই কাউকে রাজনৈতিক কারণে মামলা দিয়ে হয়রানি করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। এমনকি মীরগঞ্জে তার ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসন মামলা করতে বললেও তিনি তা করেননি, কারণ তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।
তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, কাউকে ভোট না দেওয়া বা ভিন্ন রাজনৈতিক মতের কারণে কোনো ধরনের জুলুম তিনি হতে দেবেন না। যারা মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত, তাদের নাম থানাভিত্তিকভাবে জানাতে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে তিনি আইজিপি, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, এসপি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কানকথা ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ন্যায্যতা ও ইনসাফের ভিত্তিতে ভোট দিন। পুরোনো নষ্ট রাজনীতির জবাব ব্যালটের মাধ্যমেই দেওয়া উচিত বলে তিনি প্রত্যাশা করেন ।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.