জয়পুরহাট প্রতিনিধি
গ্রামীণ জনপদে আসন্ন গণভোটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নীরবতা ও অনাগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা পরিচিত আড্ডায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কিছুটা আলোচনা হলেও গণভোট বিষয়ে তেমন কোনো আগ্রহ বা পরিষ্কার ধারণা নেই। জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রামের অধিকাংশ ভোটারই জানেন না গণভোট কী, কেন এটি আয়োজন করা হচ্ছে কিংবা এতে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ ও প্রভাব কী হতে পারে।
মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাবে গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া গ্রামবাংলার মানুষের কাছে এখনো স্পষ্টভাবে পৌঁছায়নি। অনেকেই গণভোটকে জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার একটি পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন। কোন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে—সে বিষয়েও বেশির ভাগ ভোটারের কোনো ধারণা নেই।
কালাই উপজেলার পৌরসভা, আহম্মেদাবাদ, পুনট, মাত্রাই, উদয়পুর ও জিন্দারপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কথা হয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে। উদয়পুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “নির্বাচন কী, ভোট কী—এইটা বুঝি। কিন্তু গণভোট আবার কী জিনিস, এইটা কেউ আমাদের বোঝায় নাই।”
ভ্যানচালক এনামুল হক বলেন, “ভোট হইবো জানি, ভোট দিমু। কিন্তু গণভোট কোনটা, সেইটা তো বুঝি না।”
বলিগ্রাম এলাকার দিনমজুর সাবের মিয়া বলেন, “গণভোট দিলে কী হইবো, এইটার মানে তো বুঝি না। কেউ যদি বোঝাইতো, তাহলে হয়তো বুঝতাম।”
একই এলাকার গৃহবধূ শশী বালা বলেন, “গণভোট দিলে আমাদের কী লাভ বা ক্ষতি, এইটা কেউ কইছে না। তাই এইটা নিয়ে তেমন আগ্রহও নাই।”
শিকটা গ্রামের শ্রমিক সাকাম মিয়া বলেন, “‘হ্যাঁ’ দিলে কী হইবো আর ‘না’ দিলে কী হইবো—এইটাই তো বুঝি না। শুধু হ্যাঁ-না শুনলেই তো সব পরিষ্কার হয় না।”
উল্লেখ্য, রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ সংলাপ শেষে সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এসব সংস্কারের বৈধতা দিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও এর তাৎপর্য সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়নি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, মাঠপর্যায়ে সরকারি দপ্তর ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয়ভাবে জনগণের কাছে যেতে হবে।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন বলেন, “আমরা মাঠপর্যায়ে প্রচার ও মতবিনিময় কার্যক্রম জোরদার করেছি, যাতে ভোটাররা গণভোটের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, “সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জনসচেতনতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে পাঁচটি ইউনিয়নে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য অফিসের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ-না ভোট’ সংক্রান্ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের আগেই সব ভোটারের কাছে গণভোটের বার্তা পৌঁছে যাবে।
উপজেলার সচেতন মহলের মতে, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে প্রথম শর্ত হলো সহজ ও পরিষ্কার ভাষায় তথ্য পৌঁছে দেওয়া। গণভোট কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে অংশগ্রহণ করলে কী পরিবর্তন আসতে পারে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্নই থেকে যাবে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তের প্রচারণা সেই নীরবতা ভাঙতে পারে কিনা।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.