আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যুবকদের বেকার ভাতা নয়, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে ঘরে ও বাইরে সকল কর্মক্ষেত্রে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরা গণমুখী মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনি যদি সত্যিই মাকে সম্মান করতে চান, তাহলে সব মায়েদের সম্মান করতে হবে। যার বয়স এক বছর, তাকেও সম্মান করতে হবে, কারণ সেও একদিন মা হবে।” তিনি বলেন, জীবনের চেয়েও মায়ের ইজ্জতের মূল্য বেশি। তাই যে কোনো মূল্যে নারীদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “মিথ্যাবাদীরা অনেক কিছুই বলতে ও করতে পারে। একদিকে তারা মেয়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেয়, অন্যদিকে মায়েদের গায়ে হাত তোলে—এটা কেমন ফ্যামিলি কার্ড?” তিনি আরও বলেন, যারা নিজের মাকে সম্মান করতে জানে না, তারা গোটা জাতিকেও সম্মান করতে পারে না।
নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, আধুনিক পোশাক পরিহিত এক নারী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন—জামায়াত একটি আদর্শিক দল হওয়ায় তিনি দলটিকে পছন্দ করেন। জামায়াত ক্ষমতায় এলে তিনি মার্জিত পোশাক পরিধান করে ইসলামী নিয়ম মেনে জীবনযাপন করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ওই নারীর মতে, জামায়াত ইসলামী নারীদের মর্যাদা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ একটি দল।
জামায়াত আমীর আরও বলেন, অতীতে সারা দেশে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর চরম জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। সাতক্ষীরায়ই ৪৮ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, অনেককে গুলি করে পঙ্গু করা হয়েছে, অসংখ্য মা বিধবা ও সন্তান এতিম হয়েছে। এরপরও জামায়াত ধৈর্য ধারণ করেছে, কারণ ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য একটি দলের চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটকে দায়ী করে তিনি বলেন, জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত নয়। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে এবং বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধার করা হবে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। জনগণের এই লুট করা সম্পদের সঙ্গে জামায়াতের কোনো আপোষ নেই।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো শিক্ষিত চোর দেশের সম্পদ লুট করতে পারবে না। কর্মজীবী ও চাকরিজীবীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইনসাফের ভিত্তিতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথমে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে ভোট দিন, এরপর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। হ্যাঁ মানে আযাদী, না মানে গোলামী। আর দাঁড়িপাল্লা হলো ইনসাফের প্রতীক।” তিনি সাতক্ষীরার চারটি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন—সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী হাফেজ রবিউল বাসার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলামসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

