দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পাচার হয়ে দেশে প্রবেশ করছে। চোরাপথে আসা এসব অস্ত্র হাত বদল হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝে মধ্যে দু-একটি অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, তবে অস্ত্র চোরাচালানের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় এসব অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনী পরিবেশে সহিংসতা সৃষ্টি করতে পারে—এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, দুস্কৃতিকারী ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলার সঙ্গে ভারতের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। বাকি অংশ কাঁটাতারবিহীন ও উন্মুক্ত থাকায় ওইসব এলাকা দিয়েই সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে ভারত থেকে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অস্ত্র পাচার হয়ে থাকে। এমনকি কাঁটাতারের বেড়ার ওপার থেকেও ছুড়ে ফেলে এপারে অস্ত্র ও মাদকের চালান পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মাদক চোরাকারবারি জানান, দৌলতপুরের জামালপুর, বিলগাথুয়া, ধর্মদহ, মুন্সিগঞ্জ, চরপাড়া, চল্লিশপাড়া, বাংলাবাজার ও উদয়নগরসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান হয়ে থাকে। তারা জানান, ইদানীং অস্ত্রের চালান তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। সাধারণত সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টার মধ্যে এসব পাচার কার্যক্রম চলে। পরে ওষুধের গাড়ি, সবজিবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচার বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্র সরবরাহকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, “দৌলতপুর একটি সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কিছু অংশ সন্ত্রাস কবলিত। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, সীমান্ত দিয়ে যে অস্ত্র আসছে তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। নির্বাচন সামনে রেখে আরও জোরালোভাবে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠাতে হবে।”
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, চলমান অভিযানে প্রায় ১১০ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন বলেন, “আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবহার করে যাতে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত না হতে পারে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। দৌলতপুরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের অভিমত, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধের পাশাপাশি পাচার হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.