আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
ফুটন্ত গরম তেলে খালি হাত ডুবিয়ে অনায়াসেই পিয়াজি ও সিংগারা ভাজছেন এক তরুণ। কোনো হাতল বা বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়াই কড়াই থেকে খাবার তুলে আনার এই দৃশ্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত স্থানীয়রা। নওগাঁর আত্রাই উপজেলার চকশিমলা চকবাজারে প্রতিদিনই এমন ব্যতিক্রমী দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছেন এলাকাবাসী।
চকশিমলা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রাকিব পেশায় একজন ভাজাভুজি বিক্রেতা। ছোট একটি দোকানে প্রতিদিন তিনি পিয়াজি, সিংগারা ও ডালপুরিসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু তার কাজের ধরনই তাকে আলাদা করে তুলেছে সবার নজরে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাকিব মেজ। শৈশব থেকেই তাকে দারিদ্র্য ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। পড়াশোনা করে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে সপ্তম শ্রেণির পর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায়। অল্প বয়সেই তাকে নামতে হয় জীবনসংগ্রামে।
দারিদ্র্য তাকে দমাতে পারেনি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় সংকল্প নিয়ে চকশিমলা চকবাজারে একটি ছোট দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন ভাজাভুজির ব্যবসা। সেখানেই ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে খালি হাতে খাবার ভেজে ক্রেতাদের চমকে দিচ্ছেন তিনি।
দোকানে আসা ক্রেতারা জানান, গরম তেলের সামান্য ছিটে লাগলেও যেখানে শরীর পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, সেখানে রাকিব নির্বিঘ্নে হাত ঢুকিয়ে কাজ করছেন—এমন দৃশ্য খুবই বিরল। অনেকেই শুধু এই ব্যতিক্রমী কৌশল দেখতেই তার দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে রাকিব বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করে বড় হয়েছি। পড়াশোনা করার খুব ইচ্ছে ছিল, কিন্তু অভাবের কারণে সম্ভব হয়নি। এখন এই দোকানটাই আমার সব। নিজের কাজকে ভালোবাসি, পরিশ্রম করে অভাব জয় করতে চাই।”
এলাকাবাসীর মতে, রাকিবের মতো পরিশ্রমী ও অদম্য তরুণকে যদি সরকারি কিংবা বেসরকারি উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তিনি তার এই ছোট ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারবেন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।

