মাসুদুর রহমান খান ভুট্টু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শহরের পুরোনো আদালত রোডে অবস্থিত ‘মারইয়াম প্রেস’-এর স্বত্বাধিকারী। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁর প্রেস থেকে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মুঠোফোন জব্দ করে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার অপর আসামি হলেন সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শাহজাহানের ছেলে এবং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি।
পুলিশ জানায়, সৌরভ হোসেন সিলগুলো তৈরির জন্য সোহেল রানার প্রেসে অর্ডার দেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সৌরভ হোসেনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থীর একাধিক ছবি রয়েছে। এসব ছবি ও জব্দকৃত আলামতের সূত্র ধরে সিল তৈরির পেছনের উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সৌরভ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ বলেন, “৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
এদিকে, ঘটনার পর মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা জামায়াতের কর্মী বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সিল তৈরির পেছনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ ষড়যন্ত্র থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, একইভাবে আরও সিল বা ব্যালট ছাপানোর ঘটনা ঘটতে পারে—এ বিষয়ে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের পর একই দিন রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামী। এতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী রেজাউল করিম অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে। তিনি দাবি করেন, সোহেল রানা জামায়াতের কেউ নন এবং এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করবে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা স্বীকার করেছেন যে অর্ডার পাওয়ার পর তিনি সিলগুলো তৈরি করছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, সৌরভ হোসেন নামের এক ব্যক্তি এসব সিল তৈরির অর্ডার দেন।
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিল তৈরির উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

