শামসুল হক ভূঁইয়া, গাজীপুর
দেশের শস্য ভান্ডারে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দু’টি হাইব্রিডসহ ছয়টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত। বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই নতুন জাতগুলো সারা দেশজুড়ে চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—
ব্রি ধান১১৫: ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, কালো চালের উচ্চ ফলনশীল জাত। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৭.৪ টন।
ব্রি ধান১১৬: ব্রি ধান৯২ এর সমসাময়িক, দীর্ঘ জীবনকাল (১৫৪ দিন) ও শক্ত গাছের উচ্চ ফলনশীল নাবী জাত। হেক্টর প্রতি ৮.৫৯ টন ফলন।
ব্রি ধান১১৭: স্বল্প লবণাক্ততা সহনশীল এবং eøv÷ রোগ প্রতিরোধী। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৮.৬ টন, উপযুক্ত পরিচর্যায় ৯.৯ টন পর্যন্ত।
ব্রি ধান১১৮: হাওরাঞ্চলের জন্য উপযোগী, ঠাণ্ডা সহনশীল। হেক্টর প্রতি ৬-৮.৫ টন ফলন।
ব্রি হাইব্রিড ধান৯ ও ধান১০: ঢলে পড়া প্রতিরোধী (লজিং টলারেন্ট), মাঝারি লবণ সহনশীল। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ৯.৫–১০.৭ টন।
নতুন এই ছয়টি জাতসহ ব্রি উদ্ভাবিত ধানের মোট সংখ্যা এখন দাঁড়ালো ১২৭টি। এই ধানগুলো বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বৈরি পরিবেশে সহনশীল।
ব্রি জানিয়েছে, নতুন এই জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে পৌঁছালে বাংলাদেশে ধান উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ২০ শতাংশ ছিল, যা বর্তমানে ১০ শতাংশে নেমেছে। এই সময়ে জনসংখ্যা আড়াই গুণ বেড়েছে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নতুন উদ্ভাবিত ধানের জাতগুলো দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.