Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জেলার সংবাদ
  11. ঢাকা বিভাগ
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. ধর্ম
  14. প্রধান সংবাদ
  15. ফিচার
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভাসানচরকে ঘিরে হাতিয়া–সন্দ্বীপে নতুন বিতর্ক: কার সীমানায় দ্বীপটি?

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ ২:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছায়েদ আহামেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত ভাসানচরের ছয়টি মৌজা। এ মর্মে স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আলাদা গেজেটও প্রকাশ করেছে ইতোপূর্বে। মীমাংসিত এ বিষয়টি নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা নতুন করে চর’টির অবস্থান সন্দ্বীপের দিকে উল্লেখপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের নিকট চিঠি পাঠিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে নোয়াখালীর সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন।

গতশতকের ৯৪-৯৫ সালের দিকে হাতিয়ার সীমানায় বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় জালিয়ার চর,ঠেঙ্গার চরসহ কয়েকটি চর জেগে উঠে। ২০১০ সালের দিকে ভাসানচর নামের এ চরভূমি দৃশ্যমান হলে ২০০২-২০০৩ সালে নোয়াখালী বনবিভাগ সেখানে বনায়ন সৃজন করে বলে জানান হাতিয়ার নলচিরা রেঞ্জ। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের সিদ্ধান্তের পর দ্বীপটি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসহ রাষ্ট্রীয় সব ধরনের প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতিয়া উপজেলার অধীনেই পরিচালিত হচ্ছে।

১৯১৩-১৬ সালে নোয়াখালীর সীমানা নির্ধারনী ম্যাপে হাতিয়ার উত্তর-পূর্বে এ দ্বীপের হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নের আন্ধারমানিক-সাগরদী নামীয় জায়গাটুকু অবস্থিত। যা ১৯২০ সালের নদী ভাঙনের শুরুতে বিলীন হয়ে যায়।

নোয়াখালী গেজেট, নোয়াখালী ও সন্দ্বীপের ইতিহাস,

কৈলাশ সিং এর রাজমালা, কাজী মোজাম্মেল হকের তিন হাজার বছরের নোয়াখালী সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯২০ সাল থেকে হাতিয়ায় নদীভাঙন শুরু হলেও ১৯৫০ সালের দিকে রামগতি ও লক্ষ্মীপুর সদরের সাথে তোয়াহ্ বাঁধ এবং ১৯৬২ সালে রামগতি ও মান্নান নগরের বাঁধের ফলে এ ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। এসময় দ্বীপের নীলক্ষী-চরবাটা, হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নের সাগরদী, আন্ধারমানিক, হজিমিজি ও তদসংলগ্ন অনেকগুলো আবাদি চর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে হাতিয়ার মানচিত্রকে আমূল পরিবর্তন করে দেয় । ভাঙনের তীব্রতায় দ্বীপের সমৃদ্ধ জনপদ রাধাখালি, চিত্রাখালি, বাথানখালি, মাইজচরা, চরভারতসেন, সাহেবানী, চৌরঙ্গী, মফিজিয়া, সুখচর, নলচিরা, গোডাউন বাজার অন্যতম। এখন নদী ভাঙন হাতিয়ার নিত্যসঙ্গী। প্রায় ৭০ বছর ভাঙনে হাতিয়ার প্রায় ৯০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্বরাষ্ট্র, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গেজেট এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের চিঠি :

২০১২ সালের ১৯ নভেম্বর পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ১৮ ডিসেম্বর সরকারি গেজেট প্রকাশিত। যার তফসিল ভূমি- নোয়াখালী জেলার অধীন ২২°৫৫’ উত্তর অক্ষাংশ হতে ৯০°৫০’পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ও ২১°৩০’ উত্তর অক্ষাংশ হতে ৯১°৩০’পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যবর্তী স্থানে নতুন জেগে ওঠা চর/ভূমি বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করতঃ বর্ণিত ভূমির উপর কারো কোন দাবী-দাওয়া থাকলে উহা নোটিশ জারীর তারিখ হতে ৪ মাসের মধ্যে প্রামানিক দলিলপত্রসহ নিয়োগকৃত ফরেস্ট সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট জানানোর জন্য আহবান করা হয়।

যেহেতু বর্ণিত ঘোষণার প্রেক্ষিতে এর বিপরীতে কোন দাবী-দাওয়া উপস্থাপিত হয় নাই বা উপস্থাপিত হওয়ারপর আইনসঙ্গত ভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেহেতু বিজ্ঞপ্তি জারীর পর থেকে হাতিয়ার সংরক্ষিত বনভূমি বলে গণ্য হয় মর্মে ঘোষিত হয় ।

একই সঙ্গে, ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ভাসানচর কে হাতিয়ার ০৫নং চরঈশ্বর ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা- ভাসানচর, শালিক চর , চর বাতায়ন, চর মোহনা , চর কাজলা, কেওডার চর নিয়ে ‘ভাসান চর’ থানা গঠন করা হয়। যা একই বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। এর পূর্বে ২০১৬-১৭ জরিপ মৌসুমে চর’টিতে দিয়ারা জরিপ পরিচালনা করা হয়। পরে হাতিয়ার ভূমিহীনদের মাঝে জেগে ওঠা এ ভূমি বন্দোবস্ত দেওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য বাসযোগ্য করা হয়।

অপরদিকে, ভূমি মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম (সন্দ্বীপ)-নোয়াখালী (হাতিয়া) অংশে আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি টিম ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর ভাসানচর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে। যেখানে ১৯৩৫ সালের প্রকাশিত নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার সি.এস. নক্সা ও ১৯৫৪ সালের প্রকাশিত চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলা সি.এস নক্সা’র বিষয় উল্লেখ করে- ভাসানচরের ৬টি মৌজার অবস্থান ৯১°.২১’-৩০” হতে ৯১°.২৬’-০” পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও ২২°.২০’-০” হতে ২২°.২৫’-০” উত্তর দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে, যা পূর্ব দিকে অর্থাৎ সন্দ্বীপের দিকে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহের এমন বিভাজনমূলক জরিপ- স্থানীয় জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত সন্দ্বীপ নোয়াখালীর আওতায় ছিল, যা হাতিয়া কোর্টেরও একতিয়ারভুক্ত ছিল। হাতিয়ার এমএনএ মাওলানা আব্দুল হাই’র প্রশাসনিক এলাকাও ছিল এ সন্দ্বীপ ও রামগতি এলাকা। ১৯৫৫ সালে সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলার সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

সামাজিক সংগঠন ‘সচেতন নাগরিক সমাজ–হাতিয়া’র সাধারণ সম্পাদক মহিব্বুল মাওলা বলেন, বনবিভাগের গেজেট প্রকাশের সময় কিংবা দিয়ারা জরিপ মৌসুমে সন্দ্বীপের পক্ষ থেকে কোনো দাবি আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি পুনরুজ্জীবিত করছে।

নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ভাসানচর নিয়ে সরকারের দুইটি গেজেট রয়েছে। এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। অকারণে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম এলাকার মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

ভাসানচরকে সন্দ্বীপ যেভাবে দাবী করে-

১৯৯২ সালে সন্দ্বীপের ন্যায়ামস্তি নামের ইউনিয়নটি নদী ভেঙে বিলীন হয়ে যায়। সে স্থানে জেগে ওঠা নতুন চর’টি সন্দ্বীপবাসী তাদের বলে দাবী করে। এবং চর’টি বর্তমান সন্দ্বীপ থেকে তিন কিলোমিটার বলে দাবি করেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের অনেক জায়গায় দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন অনেক উপজেলা বা এলাকা রয়েছে নিটকবর্তী জেলার সীমানায় না পড়ে ঐতিহাসিক কারণে দূরবর্তী জেলার সীমানায় পড়েছে। বড় উদাহারণ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা। কুড়িগ্রাম জেলার বড় অংশ ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম অংশে পড়লেও রৌমারীর অবস্থান ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাশ্বে জামালপুর জেলার সঙ্গে মূল ভূখন্ডের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রয়েছে। চাঁদপুর জেলার ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন মেঘনা নদীর পশ্চিম পাশে শরীয়তপুরের সঙ্গে সংযুক্ত। অথচ চাঁদপুরের অবস্থান মেঘনা নদীর পূর্ব অংশে। তবুও ঐতিহাসিক কারণে ইব্রাহিমপুর চাঁদপুর জেলারই অংশ।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, ২০১২ সালে বনবিভাগের গেজেটের বিষয়টি সাম্প্রতিক আলোচনায় উপস্থাপন করা হয়নি—এটি আমারও জানা নাই।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির সদস্য মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি গেজেট ও মানচিত্র অনুযায়ী ভাসানচর হাতিয়ার সীমানার মধ্যেই পড়ে।

ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ও ভাসানচর জরিপ টিমের আহবায়ক মো. শাহাদাত হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা এর বাইরে কিছু বলতে পারি না।

প্রসঙ্গত, ঐতিহাসিক দলিল, সরকারি গেজেট, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও দীর্ঘদিনের কার্যক্রম—সব দিক বিবেচনায় ভাসানচর হাতিয়া উপজেলার অংশ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি না করে বিদ্যমান গেজেট ও আইনগত অবস্থানকে সম্মান করাই হবে রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য মঙ্গলজনক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।