আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর এলাকায় জমির মালিকদের মাছ চাষে বাধা দেওয়ার অভিযোগে কথিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় প্রতাপনগর দক্ষিণ বিল (মাদারবাড়িয়া) এলাকায় ওয়াপদা বেড়ির উপর এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
দক্ষিণ প্রতাপনগর মৌজার জমির মালিকদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আলমগীর হোসেন, আজিজুর রহমান, শাহাদাত হোসেন, মুকুল হোসেন ফকির, রফিকুল গাজী, মনি, আ. ওহাব, ইউনুছ সরদার, সিরাজুল ফকির, শফিকুল, মোস্তফা কামাল, আ. গাজী ও আ. হকসহ অনেকে।
বক্তারা জানান, ২০২২ সালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী লোনা পানি প্রবেশ বন্ধের কথা বললে বিভিন্ন কারণে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তারা লোনা পানি তোলা বন্ধ করেন। কিন্তু গত চার বছরে মিষ্টি পানিতে ধান চাষ করে তারা আশানুরূপ ফলন পাননি। ফলে ধারাবাহিক লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
জমির মালিকদের দাবি, গত বছর পর্যন্ত তাদের মাছ চাষে বাধা দেওয়া হয়েছে। একজন মালিক জানান, দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করেও তিনি মাত্র ১২ হাজার টাকার ধান পেয়েছেন। গত চার বছরে স্থানীয় প্রায় ৯০০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে অধিকাংশ কৃষক খরচের টাকাও তুলতে পারেননি। এতে ৫-৬ শতাধিক পরিবার ঋণগ্রস্ত ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তারা আরও জানান, প্রায় ২০০-২৫০ বিঘা জমি স্রোতে খালে পরিণত হয়েছে এবং প্রায় ১৫০ বিঘা জমি বালুময় হয়ে পড়েছে, যেখানে ধান চাষ কার্যত অসম্ভব। লোনা পানি ঠেকাতে তারা নিজ উদ্যোগে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, বর্তমানে জমির মালিকরা বাধ্য হয়ে মাছ চাষের ঘের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে কোনো ব্যক্তির নেতৃত্ব নেই; পরিস্থিতির চাপে জীবিকার তাগিদেই তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জমির মালিকদের চরম দুর্দশা থেকে রক্ষা করতে মাছ চাষের সুযোগ দেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এ অঞ্চলে লোনা পানির প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই কৃষি ও জীবিকায় প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.