পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর পত্নীতলায় নজিপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত শিক্ষক জুবায়ের হোসেন, যিনি পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন, অভিযোগ করেন—সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম ও সহকারী শিক্ষক মনির ও সুলতান তাকে বাধা দেন এবং প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গিয়ে সই করতে বলেন। তিনি হাজিরা খাতায় সই করার কথা বলতেই মনির ও সুলতান তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তার নাক ফেটে যায় এবং সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি দাবি করেন, প্রধান শিক্ষকের ইন্ধনেই এ হামলা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা খাতা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে থাকার কথা। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষক সেটি কমন রুমে নিয়ে যান এবং নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করেন না। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকালে হাজিরা খাতা প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আনতে গেলে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পত্নীতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে একই ধরনের বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। শিক্ষকদের গ্রুপিং ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

