মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে জেসমিন নাহার (৩৪) নামে এক এনজিও কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার কপালিয়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল-এর মর্গে পাঠানো হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে জেসমিন নাহারের ১২ বছর বয়সী ছেলে ঘরের সামনে একটি আমগাছে মায়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
দুই সন্তানের জননী জেসমিন নাহার কপালিয়া গ্রামের মিলন হোসেনের স্ত্রী। তিনি আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টার-এর নেহালপুর শাখায় ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, প্রায় ৮-৯ লাখ টাকার ঋণের চাপে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মনিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিক জানান, জেসমিনের স্বামীর স্থানীয় বাজারে একটি চায়ের দোকান রয়েছে। সীমিত আয়ে সংসার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি কর্মরত সংস্থার গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণকৃত ঋণের কিছু অর্থ গোপনে রেখে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে তার দেনার পরিমাণ কয়েক লাখ টাকায় পৌঁছে যায়।
এসআই রফিক আরও জানান, সম্প্রতি গ্রাহকরা বিষয়টি জানতে পেরে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আদ-দ্বীন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের নেহালপুর শাখার ব্যবস্থাপক পলাশ পারভেজ বলেন, জেসমিন নিজ এলাকায় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। সকালে সহকর্মীর মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মাসিক হিসাব অনুযায়ী অফিসে তার উল্লেখযোগ্য কোনো দেনাপাওনা নেই বলে তিনি দাবি করেন। তবে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মেহেদী হাসান
কার্যালয়ঃ দেশ ভিলা, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মিয়া সড়ক, জিটি স্কুল সংলগ্ন, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ।
মোবাইলঃ ০১৭১৮-৫৬৫১৫৬, ০১৯৯৫-৩৮৩২৫৫
ইমেইলঃ mehadi.news@gmail.com
Copyright © 2026 Nabadhara. All rights reserved.