কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়াকে। তবে তিনি ১৯৭৩ সালের একটি বহুল আলোচিত চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার ৩ নম্বর আসামী হওয়ায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলাটি বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউর রহমান লেবু, কমলেশ বেদজ্ঞ, বিষ্ণুপদ কর্মকার ও রামপ্রসাদ চক্রবর্তী মানিক হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত। ১৯৭৩ সালের ১১ মার্চ দায়ের করা ওই মামলায় আবুল কালাম দাড়িয়াসহ মোট ২৩ জনকে আসামী করা হয়। বর্তমানে জীবিত রয়েছেন তিনজন—ফারুকুজ্জামান সরদার, আবুল কালাম দাড়িয়া ও মিলন সরদার। মামলাটি বর্তমানে দ্রুত বিচার আদালতে বিচারাধীন।
সম্প্রতি কোটালীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলে আবুল কালাম দাড়িয়াকে আহ্বায়ক করা হয়। এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা দ্রুত কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
মামলার বর্তমান বাদী ও নিহত কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তারা বিচার পাননি। তিনি বলেন, “একজন হত্যা মামলার আসামীকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক করা হয়েছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত এ কমিটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান শেখ অভিযোগ করেন, অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাকে না জানিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম দাড়িয়া দাবি করেন, সকল সদস্যের মতামতের ভিত্তিতেই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “১৯৭৩ সালের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম না। শত্রুতাবশত আমাকে আসামী করা হয়েছিল। প্রকৃত আসামীরা কেউই এখন জীবিত নেই।”
এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক ফিরোজ খান বলেন, কমিটি গঠনের সময় আবুল কালাম দাড়িয়া হত্যা মামলার আসামী—এ তথ্য তাদের জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ কোটালীপাড়ায় এক জনসভা শেষে নৌকাযোগে ফেরার পথে টুপরিয়া এলাকায় হামলায় চার মুক্তিযোদ্ধা নিহত হন। এ ঘটনায় পরদিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির বিচার কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

